পিআরএল সোনার পাথর-বাটি!

আমাদের সময়ে চাকরিতে বাধ্যতামূলক অবসরের বয়স ছিল ৫৭ বছর। পাওনা ছুটি সাপেক্ষে সর্বোচ্চ এক বছর অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি (Leave preparatory to retirement) ভোগ করা যেত, যা ৫৭ বছর পূর্ণ হওয়ার অন্তত এক দিন আগে থেকে শুরু করতে হতো। সেক্ষেত্রে ছুটিসহ চাকরির বয়সসীমা দাঁড়াত ৫৮-তে। কয়েক বছর আগে চাকরির বয়সসীমা দু বছর বাড়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে নতুন ফরমুলা আবিষ্কার করা হয়, যার নাম পিআরএল (Post retirement leave)। বাংলা করলে দাঁড়ায় অবসরোত্তর বা অবসরের পর ছুটি। এটি একটি সোনার পাথর-বাটি। চাকরি নাই তারপরও ছুটি আছে। অবসর ৫৯ বছরে, ছুটি তারপরে আরো এক বছর, মানে ৬০ বছর শেষে পূর্ণ অবসর। গত ২ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপন জারি করে জানানো হয়েছে যে, পিআরএল চাকরিকাল গণ্য হবে না। তবে এলপিআর ভোগকালীন সব সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে। বিষয়টি সম্পূর্ণ স্ববিরোধী। কেননা চাকরিই যদি না থাকে তবে বেতনভাতা, ইনক্রিমেন্ট এবং ১ জুলাই ২০১৫-তে পিআরএল ভোগরতরা কীভাবে নতুন পে-স্কেলে পেনশন গ্র্যাচুইটি পেতে পারেন তা বোধগম্য নয়। তাছাড়া নতুন প্রজ্ঞাপনটিতেও স্ববিরোধিতা আছে। একটি উদাহরণে অবসরকালের দিন-তারিখ কীভাবে নির্ধারিত হবে তা বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের ২ (খ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, পিআরএল এক বছর ভোগ করলে অবসরের তারিখ ১-১-২০২২। পরের অনুচ্ছেদ ২ (গ)-তে বলা হলো, পিআরএল ভোগ না করলে অবসরের তারিখ হবে ৩১-১২-২০২০। অর্থাত্ পিআরএল ভোগ করলে অবসর আরো একদিন পরে শুরু হবে। হতে পারে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীরা ১৫ বছরের অবসর এক বছর আগেই শেষ করে যাতে পেনশনে পুনঃস্থাপনের সুযোগ না পান সেটা চিন্তা করেই এটা করা হয়েছে। কিন্তু এক দিনের পার্থক্যটা বোধগম্য নয়। আমার মতে, পিআরএল নামক ‘সোনার পাথর-বাটি’ উঠিয়ে দিয়ে ৫৯ বছর বয়স শেষ হওয়ার আগেই এক বছর এলপিআর ভোগ করার সুযোগ পুনঃবহাল অর্থাত্ এলপিআরসহ অবসরের বয়স ৬০ বছর নির্ধারণ করা হোক।

ওয়াহিদুল ইসলাম আখন্দ

৫৭০/১-বি, সেনপাড়া-পর্বতা, ঢাকা ১২১৬