বগুড়ার শেরপুরে যত্রতত্র দাঁতের ভুয়া চিকিত্সকের চেম্বার!

শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার যত্রতত্র কিছু ভুয়া দাঁতের চিকিত্সক চেম্বার খুলে ব্যবস্থাপত্র লিখে চিকিত্সা দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। চিকিত্সা শাস্ত্রের ওপর সরকার অনুমোদিত কোনো ডিগ্রি তাদের না থাকলেও সুদৃশ্য চেম্বারে ওরা নিয়মিত রোগী দেখাসহ দাঁতের কাজ করছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে। হাতুড়ে এসব দাঁতের চিকিত্সকের চিকিত্সায় অনেকক্ষেত্রেই বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন অনুযায়ী সরকার নিবন্ধিত চিকিত্সক ছাড়া এভাবে চেম্বার খুলে রোগী দেখা ও চিকিত্সা প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের হাটখোলা রোড, মাজার রোড, রেজি. অফিস মোড়, খন্দকার পাড়াসহ শেরপুর ও শেরপুর শহরতলীতে প্রায় ৩০টি ডেন্টাল চেম্বার রয়েছে। এ সকল চেম্বারে সরকার অনুমোদিত ডিগ্রিধারী কোনো ডেন্টাল চিকিত্সক বসেন না। এসব চেম্বারে রুগী দেখেন ভুয়া ডিগ্রিধারী লোকেরা। তারা সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন প্যাড, ভিজিটিং কার্ড ইত্যাদিতে নামের আগে ‘ডাক্তার’ ও বিভিন্ন ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে রুগীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এমনকি প্রতিষ্ঠিত চিকিত্সকের নাম-পদবী ব্যবহার করে কোনো কোনো অসাধু ব্যক্তি চেম্বার খুলে চিকিত্সা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শেরপুরের বিশিষ্ট দন্ত চিকিত্সক ডা. তন্ময় স্যান্ন্যাল (বিডিএস) জানান, সরকারি অনুমোদন না থাকলেও এ ধরনের চিকিত্সকরা দেশের আনাচে-কানাচে চিকিত্সা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো রকমে একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করে অনেকে নামের আগে ভুয়া ডিগ্রি লাগিয়ে দাঁত ও মাড়ির রোগীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিকিত্সা ও ব্যবস্থাপত্র দিয়ে আসছে। শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে নির্দেশ ছাড়া আমরা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি না। নির্দেশনা পেলে ভুয়া দন্ত চিকিত্সকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিয়াকত আলী শেখ জানান, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত চিকিত্সা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরালো করতে হবে। কেউ যদি নামের আগে ভুয়া ডিগ্রি লাগিয়ে রোগীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুল চিকিত্সা প্রদান করে তবে তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তিযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।