বাগমারায় সড়কে বেপরোয়া ট্রাক!

যত্রতত্র পানি ও মাটি পড়ে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা

বাগমারা উপজেলায় মাছ ও মাটিভর্তি ট্রাকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে অল্প সময়ে বিনষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন সড়ক। তাছাড়া ট্রাক থেকে যত্রতত্র পড়া পানি ও মাটির কারণে সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, চলতি শুষ্ক মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুকুর-দিঘি খনন বেড়েছে। কেউ দুই-তিন ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে, কেউ কৃষিজমিতে পুকুর খনন করছে। সবচেয়ে বেশি পুকুর খনন হচ্ছে উপজেলার যশোর বিলে। খননে উঠে আসা এসব মাটি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। আর এসব মাটি পরিবহন করা হচ্ছে অবৈধ যানবাহনে যার স্থানীয় নাম কাঁকড়া। এই কাঁকড়াতে করে বেপরোয়া মাটি পরিবহনের ফলে রাস্তা-ঘাট ভেঙে যাচ্ছে অল্প সময়ে।

উপজেলার ভবানীগঞ্জ-তাহেরপুর রাস্তা, তাহেরপুর-শিকদারী রাস্তা, ভবানীগঞ্জ-গাঙ্গোপাড়া রাস্তা, ভবানীগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রাস্তা ও মোহনগঞ্জ-তাহেরপুর রাস্তাসহ গোটা উপজেলার এমন কোনো রাস্তা নেই যেখানে এসব মাটির ট্রাকের অবাধ চলাচল নেই।

ভবানীগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন সিএনজিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাটির ট্রাক ও মাছবাহী ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে রাস্তা ভেঙে-চুরে একাকার হয়ে যাচ্ছে। তারা জানান, এসব ট্রাকে অতিরিক্ত মাটি তুলে নিয়ে যাওয়ার ফলে রাস্তায় যত্রতত্র মাটি পড়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অসমান রাস্তায় চলার সময় যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। এসব মাটির ট্রাক ছাড়াও উপজেলা ব্যাপী মাছ পরিবহনের ট্রাকগুলোও সড়কে স্বাভাবিক চলাচলে বিড়ম্বনা সৃষ্টি করছে।

স্থানীয়রা জানান, বাগমারা থেকে প্রতিদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরে মাছ নিয়ে চলাচল করে প্রায় দেড় শতাধিক মাছের ট্রাক। এসব ট্রাকে অতিরিক্ত পানি তোলার ফলে ট্রাকগুলো চলাচলের সময় পানি ছিটকে রাস্তায় পড়ে। এতে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এসব কারণে ভবানীগঞ্জের ব্র্যাক মোড় ও পল্লী বিদ্যুতের সাব স্টেশন এলাকায় সড়কে এরই মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি উপজেলার মাসিক সভায় তুলে ধরে অচিরেই এর সমাধান করা হবে।

বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, বিষয়গুলো পুলিশের এখতিয়ারের বাইরে হলেও মাঝে মধ্যে মাটি পরিবহনের ওইসব অবৈধ ট্রাক (কাঁকড়া) নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফ আহম্মেদ বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত রাস্তার ক্ষতি করে এমন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। রাস্তার ক্ষতি করে কোনোভাবেই মাটি ইটভাটায় নিতে দেওয়া হবে না। অচিরেই মাছের ট্রাকে অতিরিক্ত পানি না তোলার জন্য এবং মাছের ট্রাক থেকে পানি পড়া বন্ধে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হবে।