২১ বছর পর অ্যানফিল্ডে উড়ল নীল পতাকা

স্পোর্টস ডেস্ক

এভারটনের ঘরের মাঠ গুডিসন পার্ক থেকে অ্যানফিল্ডের দূরত্ব এক কিলোমিটারের চেয়েও কম। কিন্তু প্রতিবেশীদের মাঠ প্রায় এক প্রজন্মজুড়ে অজেয় ছিল মার্সিসাইডের নীল দলটির জন্য। অবশেষে, ২১ বছর পর অ্যানফিল্ডের দুর্গ ভেদ করল এভারটন। রিচার্লিসন ও গিলফি রিগুরদসনের গোলে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। একসময় লিভারপুলের চেয়েও প্রভাবশালী দল ছিল এভারটন। লিভারপুলে বিল শ্যাংকলি যুগের আগ পর্যন্ত এভারটনই ছিল মার্সিসাইডের সবচেয়ে সফল দল। আশির দশক পর্যন্ত এরপরও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালোই লড়াই চালিয়ে গিয়েছে মার্সিসাইডের নীল শিবির। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে একদম অতলে চলে যায় ইংলিশ ফুটবলের একসময় কার পরাশক্তি এভারটন। সেই সঙ্গে সৌন্দর্য হারায় ঐতিহ্যবাহী মার্সিসাইড ডার্বি। ১৯৯৯ সালের পর কখনো অ্যানফিল্ডের জয়ের দেখা পায়নি এভারটন। লিভারপুলের বিপক্ষে কোনো মাঠেই জয়ের দেখা পায়নি ২০১০-র পর থেকে। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল আনচেলত্তির দল।

শনিবার ‘আহত লিভারপুল’কে তাদের ঘরের মাঠে ঘায়েল করতে মোটেই ইতস্ততা বোধ করেনি আনচেলত্তির শিষ্যরা। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই দলের প্রাণভোমরা হামেস রদ্রিগেজের রক্ষণ-চেরা এক পাশ থেকে গোল করেন এভারটনের ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার রিচার্লিসন। প্রতিউত্তরের সালাহ-মানে-ফিরমিনোরা একের পর এক আক্রমণে এভারটনকে কোণঠাসা করে দিলেও গোলের দেখা পেতে ব্যর্থ হয়। আরো একবার ঘরের মাঠে গোলের খোজে হন্য হওয়া লিভারপুলকে এভারটন শেষ ঘায়েল করে ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে। বিতর্কিত এক পেনাল্টি থেকে গোল করে তখন ব্যবধান ২-০ করেন এভারটনের বদলি মিডফিল্ডার সিগুরদসন। সেই সঙ্গে সম্পন্ন করেন অত্র শতাব্দীতে এভারটনের প্রথম অ্যানফিল্ড-বধ কাব্য।