কেমিক্যালের গুদাম সরানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি

আবাসিক এলাকা থেকে সর্বপ্রকার কেমিক্যাল গোডাউন, কারখানা কিংবা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সরানোর সরকারি সিদ্ধান্তের দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, প্রায়ই পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল গোডাউন-ফ্যাক্টরিতে বিভিন্ন রকম দুর্ঘটনায় মানুষ হতাহত হচ্ছে। বেশ কয়েকবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড-দুর্ঘটনায় বহু লোক আহত ও নিহত হয়েছে। এতে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেইসঙ্গে সম্পদেরও ক্ষতি হয় ব্যাপক।

গতকাল রবিবার সকালে ‘পুরান ঢাকা কেমিক্যাল মুক্ত করতে কেমিক্যাল কারখানা, গুদাম ও দোকান অপসারণ সিদ্ধান্তের দ্রুত বাস্তবায়ন ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ চাই’ শীর্ষক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর চুড়িহাট্টা চৌরাস্তায় যৌথভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সংস্থা বানিপা, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন, সুবন্ধন সামাজিক সমাজকল্যাণ সংগঠন, ইসলামবাগ অনির্বাণ যুব ও সমাজ কল্যাণ সংস্থা, দেবীবাস ঘাট সমাজ কল্যাণ সংসদসহ সমমনা সংগঠনগুলো। 

চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা গিয়েছিল ৭১টি তরতাজা প্রাণ। এ ঘটনায় পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-পবার প্রতিনিধিদল ২০১৯ সালের ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে চুড়িহাট্টার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন, কারখানা ও দোকান সরানোর নির্দেশ দেন।

বক্তারা বলেন, চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্বজনরা এখনো স্বাভাবিক হতে না পারলেও পুরান ঢাকা এখন স্বাভাবিক। আগের মতো রাসায়নিক গোডাউন রয়েছে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে। প্রতিটি বাড়ি যেন একেকটি বোমা ঘর। এর আগে নিমতলীতে ২০১০ সালে অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। আগুনের পর এলাকা থেকে রাসায়নিকের গোডাউন সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু এরপর চুড়িহাট্টায় আগুন লাগলে রাসায়নিকের গুদামগুলো সরানোর তোড়জোড় দেখা যায় আবারও। কিন্তু ফলাফল শূন্য।

জানা গেছে, পুরান ঢাকায় প্রায় ২৫ হাজার কেমিক্যাল গোডাউন আছে। এর মধ্যে বৈধ মাত্র আড়াই হাজার। দুর্ঘটনা ঘটার পর এসব রাসায়নিক গোডাউন সরানোর কথা আলোচনা হলেও বাস্তবে এর গ্রতিফলন নেই। বাড়ির মালিকরা শুধুমাত্র বেশি ভাড়ার লোভে এসব গোডাউন ভাড়া দিয়ে থাকেন। ফলে কদিন পর পর ঘটে দুর্ঘটনা। প্রাণ হারায় নিরীহ মানুষগুলো। বক্তারা আরো বলেন, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী অবৈধ কেমিক্যাল কারখানার মালিকরা এখনো আইনের আওতায় আসেনি। সরেনি কেমিক্যাল গোডাউন ও প্লাস্টিকের কারখানাগুলোও। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও তা এখনো পূরণ করা হয়নি। মানববন্ধনে পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, চুড়িহাট্রা অগ্নিকান্ডে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সংস্থার সভাপতি মো. নাসিরউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাসুম সৈনিক, পবার সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ, বানিপার সভাপতি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. শহিদুল্লাহ, নাসফের সহসভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী প্রমুখ।