মসলা

দারুচিনি

 

অতি প্রয়োজনীয় একটি সুগন্ধি মসলা জাতীয় উদ্ভিদ। বিশেষ করে যে কোনো ধরনের মাংস রান্নায় দারুচিনি অত্যাবশকীয়। এছাড়াও প্রতিদিন নানা কাজে দারুচিনি ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে এই মসলাটি খুব বেশি একটা চাষ হয় না। কিন্তু এ দেশে গাছটির বৃদ্ধি স্বাভাবিক। এ কারণে সারা দেশে কিছু গাছ লক্ষ করা যায়।

দারুচিনি মাঝারি আকারের চিরসবুজ শাখাযুক্ত গাছ। সারা বছরই নতুন নতুন পাতা গজায়। তামাটে রঙের কচিপাতাগুলো দেখতে খুব সুন্দর লাগে। পাতাগুলো অনেকটা তেজপাতার মতো। সুস্পষ্ট শিরা দারুচিনি পাতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বসন্তের প্রথম দিকে সাদা রঙের ফুল ফোটে। ফুলের গন্ধ মধুর, অনেকটা খেজুরের রসের গন্ধের মতো। ফল সামান্য মাংসল এবং গাঢ় পার্পল রঙের।

সাধারণত পরিণত গাছের বাকলই মসলা হিসেবে ব্যবহূত হয় এবং ওষুধি হিসেবেও কাজে লাগে। বাকল ঝাঁজালো ও মিষ্টি স্বাদের। শুধু মসলাই নয়, গাছের কাঠ থেকে একধরনের উদ্বায়ী তেল পাওয়া যায়। আবার পাতা থেকে পাওয়া যায় বাদামি রঙের আঠালো জাতীয় তেল। এছাড়া গাছের বাকল পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া, আমাশয়, বমি ও মেয়েলি রোগে কাজে লাগে। সাধারণত বীজ ও কাটিংয়ের মাধ্যমে এ গাছের বংশ বৃদ্ধি করা হয়।

দারুচিনির আদিবাস হলো শ্রীলঙ্কা। তবে ভারত, মিয়ানমার, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আমেরিকাতেও জন্মে।