অফিসে যাওয়ার জন্য সকালে বেশ তাড়া থাকে। কখনো আবার এমনটিও হয় যে বিকালে বন্ধুর জন্মদিনের দাওয়াতে যেতে হবে। যেখানেই যান না কেন করোনার এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। কীভাবে সাজলে একইসঙ্গে অফিস ও জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নিজেকে পরিপাটি দেখাবে সেই পরামর্শ নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন নওশীন শর্মিলী
মেকআপ ঠিক রাখতে স্পেশাল ৪ টিপস
n ত্বককে সুন্দর রাখতে চাইলে মেকআপ করার আগে মুখে বরফ ঘষে নিন। মেকআপ শুরু করার ঠিক ১০ মিনিট আগে ত্বক ভালোমতো পরিষ্কার করে নিন। এবার একটি পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে ত্বকের যেখানে মেকআপ করবেন, সেখানে পুরো ১০ মিনিট ধরে বরফ ঘষতে হবে। বরফ ঘষা শেষ হলে ত্বক মুছে নিয়ে মেকআপ করুন। এতে মেকআপ দীর্ঘসময় ঠিক থাকবে।
n গরমের সময় মেকআপের জিনিসপত্র অবশ্যই ভালো করে দেখে কিনবেন। গরমের জন্য ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ প্রসাধনী উপযোগী। গরমে ঘেমে গেলে আমাদের লোমকূপের গোড়া থেকে ঘাম ও তেল বের হয়ে মেকআপ নষ্ট করে দেয়। কিন্তু মেকআপের প্রসাধনী ওয়াটারপ্রুফ হলে বহুক্ষণ ঘাম বা তেল তা নষ্ট করতে পারে না। তাই এই ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
n সবসময় ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা উচিত নয়। ফাউন্ডেশন বাদ দিয়ে শুধু কনসিলার ব্যবহার করে মেকআপ করুন। কারণ বেশিরভাগ সময় খুব দ্রুত ফাউন্ডেশন গরমে গলতে শুরু করে মেকআপ নষ্ট করে ফেলে। যদি নিতান্তই ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে হয় তবে হালকা ধরনের এবং পাউডার ফাউন্ডেশন ব্যবহার করাই ভালো।
n মেকআপ ঠিক রাখার জন্য টিস্যু বা ওয়েট টিস্যুর ব্যবহার ভুল। কারণ টিস্যুর কাজ হলো মুছে ফেলা। আপনি টিস্যু দিয়ে মেকআপ ঠিক করতে গেলে উল্টো তা আরও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। টিস্যুর পরিবর্তে ব্যাগে রাখুন মেকআপের স্পঞ্জ বা ব্লটিং পেপার। মেকআপ ঠিক রাখার জন্য খানিকক্ষণ পর পর স্পঞ্জ ব্যবহার করুন। কিংবা ব্লটিং পেপার ত্বকে বুলিয়েও ঘাম মুছে ফেলতে পারেন। এতে করে মেকআপ বহুক্ষণ ত্বকে থাকবে।
মেকআপের ক্ষেত্রে সচেতনতা
কলিগদের সঙ্গে লাঞ্চ, পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে হ্যাংআউট, ইউনিভার্সিটির অনুষ্ঠান থাকতেই পারে দিনের যে কোনো সময়। সকালে বের হতে হয় সারাদিনের প্রস্তুতি নিয়ে। কিছু ক্ষেত্রে করতে হয় মেকআপও। এই সময়টা হালকা মেকআপ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে মুখের বেজ মেকআপটি। শীত শেষ, এখন কিছু গরম অনুভূত হয়। খানিকটা ঘেমে যাওয়াটা এখন স্বাভাবিক। তাই লিকুইড বেজটা রাখতে হবে পাউডার বেজের বদলে। কারণ ঘামলে পাউডারটা ভেসে উঠে এবং নেচারাল টোনটা নষ্ট হয়ে যায়। বেশি কিছুর ব্যবহার না করে শুধু লিকুইড ফাউন্ডেশন এবং ফেস পাউডারটা ব্যবহার করলে যখন-তখন এটি নিজেই রিটাচ করে নিতে পারবেন। মুখে ভালো করে বরফ ম্যাসাজ করে হালকা ওয়ের বেজ ক্রিম দিয়ে বেবি পাউডার দিন। তার ওপর হালকা ফেস পাউডার দিয়ে নিন। চাইলে ব্যবহার করতে পারেন স্কিন টোন বুঝে কনসিলার। হালকা রঙের লিপস্টিক দিন। কাজল মোটা করে দিলে চোখে শ্যাডোর প্রয়োজন নেই। ওপর দিয়ে দিতে পারেন হালকা আইলাইনারের টান। আর মাশকারার প্রলেপটা একটু ভালো করে দিলে আইল্যাশের প্রয়োজন হয় না।
চটজলদি মেকআপ
n আপনার ত্বক যদি বেশি উজ্জ্বল হয়ে থাকে তাহলে কোনো ধরনের ফাউন্ডেশন ব্যবহার না করে শুধু চোখের নিচে কনসিলার ব্যবহার করুন। পাশাপাশি চোখের শ্যাডোর সঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতা ঠিক করে নিন।
n ত্বকের কালার টোন বুঝে সঠিক ফাউন্ডেশনটি ব্যবহার করুন। ফাউন্ডেশনের গায়ে স্কিন টোন অনুযায়ী নম্বর দেওয়া থাকে। এ নিয়মটি অনুসরণ করুন। তাহলে আপনার মেকআপটি ত্বকের রঙের সঙ্গে মিশে যাবে।
n খুব বেশি কড়া কেমিক্যাল দেওয়া টোনার ব্যবহার করবেন না। তার চেয়ে বরং ঠান্ডা পানি বা গোলাপ জলই ভালো টোনারের কাজ করে। ত্বক পরিষ্কার করার আগে তুলার বল টোনারে ভিজিয়ে রাখুন। ত্বক টোনিং করার পর ত্বকে সামান্য ময়েশ্চারাইজার লাগান। দেখবেন ত্বক কেমন উজ্জ্বল ও মসৃণ হয়।
n আপনার ঠোঁটের মেকআপটি ন্যাচারাল করলে ভালো দেখাবে। পার্টি মেকআপে অবশ্যই উজ্জ্বল লিপস্টিক ব্যবহার করুন কিন্তু গায়ের রঙটিও মাথায় রাখুন।
n মেকআপ করার আগে আপনি মুখের ত্বক পরিষ্কার এবং ময়েশ্চারাইজ করে নিন। এতে করে আপনার মেকআপটি ত্বকে ভালোভাবে বসে যাবে এবং বেশ নমনীয় দেখাবে।
মডেল কেয়া পায়েল
ছবি আলিফ হোসেন রিফাত