দিনাজপুরে সড়কে প্রায় প্রতিদিনই ঘটে চলেছে দুর্ঘটনা। সড়কে নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই মোটরসাইকেল আরোহী। অবৈধ ট্রাক্টর, থ্রি-হুইলার, ট্রাক আর মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচল এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগের শিথিলতার কারণে এসব সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের বিরলে ট্রাক্টরের চাকায় প্রাণ গেছে স্বাধীন (১৭) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর। এর আগের দিন বুধবার চিরিরবন্দরে থ্রি হুইলারে প্রাণ গেছে এক নারীর। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বীরগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ যায় পাওয়ার টিলারে থাকা দুই জনের। একই দিন পার্বতীপুরে বালুভর্তি ট্রাক্টরের চাপায় প্রাণ গেছে ইব্রাহীম (১০) নামের এক ছাত্রের। রবিবার নবাবগঞ্জে অনিয়ন্ত্রিত ট্রাক খাদে পড়ে নিহত হয়েছে আহাদ আলী (৪০) নামে এক চালক। গত জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে দিনাজপুরের বিভিন্ন সড়কে ছয় দিনে প্রাণ গেছে ১০ মোটরসাইকেল আরোহীর। এসব দুর্ঘটনার বেশির ভাগই ঘটেছে বেপরোয়া গতির ট্রাকের সঙ্গে। এ ব্যাপারে গত জানুয়ারি মাসে দিনাজপুরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এ টি এম তহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বেপরোয়াভাবে ড্রাইভিংয়ের প্রবণতা বেড়েছে। এতে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। বেপরোয়াভাবে ড্রাইভিং নিয়ন্ত্রণে শিগিগরই ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযান শুরু করা হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, দিনাজপুরের সড়কের খারাপ অবস্থার কারণেও দুর্ঘটনা বেড়েছে। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা আনতে এবং দিনাজপুর শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে শিগিগরই সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে এবং সে অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।