দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সোমবার বড় ধরনের পতন হয়েছে। দুই বাজারেই সবকটি মূল্যসূচক অনেক পড়ে গেছে। এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকল শেয়ারবাজার। টানা দরপতনের পাশাপাশি লেনদেনেও খরা দেখা দিয়েছে। লেনদেন কমতে কমতে ডিএসইতে সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। গতকাল সোমবার দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ২৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে পতনের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ২১৯টি। আর ১০১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল এক দিনেই ৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে মূলধন হারিয়েছে ডিএসই। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬০ হাজার ৮০ কোটি টাকা। যা আগের কার্যদিবস শেষে ছিল ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। এ হিসেবে বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা।
অপরদিকে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৯০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৪৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্সূচক ২০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
মূল্যসূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৬৭ কোটি ৮ লাখ টাকা। গত বছরের ২৯ জুলাইয়ের পর ডিএসইতে এত কম লেনদেন হয়নি। লেনদেন খরার মধ্যে টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১০৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৩ শতাংশের সমান।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবির ৩৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ৩২ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, বেক্সিমকো ফার্মা, ওয়ালটন, সামিট পাওয়ার, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্রামীণফোন এবং বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২৫৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১২২টির এবং ৩৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।