কুমিল্লায় পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তান হত্যার অভিযোগ

কুমিল্লা নগরীতে বসতবাড়ির সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে শিল্পী আরমান নামে এক গৃহবধূর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তান হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্তান হত্যার বিচার দাবিতে মৃত সন্তান কোলে নিয়ে শিল্পী আরমান ও তার স্বামী সোমবার দিনভর পুলিশ ফাঁড়ি, আদালত ও সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেন। অবশেষে সন্ধ্যায় গৃহবধূ শিল্পী আরমান বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় চার জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরে নবজাতক শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। গৃহবধূ শিল্পী আরমান কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাথুরিয়া পাড়া এলাকার সোহেল আরমানের স্ত্রী। 

এই দম্পতি সোমবার কোতোয়ালি মডেল থানায় উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা তাদের মামা আবুল কালাম ড্রাইভারের সঙ্গে বসত বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে        আসছিল। এর জের ধরে আবুল কালামের পরিবারের লোকজন বিভিন্ন সময় তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এ নিয়ে বিগত সময়ে থানায় চারটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এতে আবুল কালামের পরিবার আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। থানায় শিল্পী আরমানের দাখিলকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, আবুল কালাম ও তার স্ত্রী শাহনাজ বেগমসহ পরিবারের লোকজন রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সম্পত্তি নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে শাহনাজ বেগম শিল্পী আরমানের পেটে লাথি মারলে তার প্রসব বেদনা শুরু হয়। রাতভর তীব্র যন্ত্রণা শেষে সোমবার ভোরে শিল্পী আরমানকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে সে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করে। নবজাতকের মা শিল্পী আরমান অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, ৯ মাসের গর্ভ অবস্থায় তাকে মারধর ও পেটে লাথি মারার কারণে গর্ভের সন্তান অসুস্থ হয়ে ভূমিষ্ট হওয়ার পর মারা যায়। তিনি বাদী হয়ে আবুল কালাম, তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম, মেয়ে লিমা, ছেলে শরীফ ও আরিফের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। রাত ৭টায় থানার ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী হাসান জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে।