জাবিতে হলে থাকতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে হলের সব সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি চার দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অন্য দাবিগুলো হলো—শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা এবং হামলায় আহতদের চিকিত্সা ব্যয় ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এদিকে শিক্ষার্থীদের বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হল সিলগালা করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে হল ছাড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সিরাজুল হক বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা এখন হল ছাড়তে রাজি না। আজকে আমাদের আন্দোলন স্থগিত থাকলেও হল ছাড়তে বললে আবারও আন্দোলন করব।  এর আগে দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা হল না ছাড়া পর্যন্ত প্রাধ্যক্ষরা হলে অবস্থান করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই প্রাধ্যক্ষরা হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে অনুরোধ করেন। পরে শহিদ রফিক-জব্বার হল, শহিদ সালাম-বরকত হল ও ছাত্রীদের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বের করে সিলগালা করে দেয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা বলেন, আমরা ছেলেদের হলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করব। ছেলেরা যদি হলে থাকে তবে আমরাও আবার হলে উঠব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে পাঁচটি হলের শিক্ষার্থীরা হল ছেড়েছে। বাকি হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে। ঐ হলগুলোতেও আমাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে আর অনুরোধ জানানো হবে না। বাকিটা রাষ্ট্রীয় প্রশাসন দেখবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বৈঠকের ব্যাপারে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, বৈঠকে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদি শিক্ষার্থীরা অন্যত্র নিরাপত্তা চায় তবে আমরা সেটিও নিশ্চিত করব বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে ক্লাসের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি জানানো হয়।