ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলা ও পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আসা সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭ মে আবাসিক হল খোলা ও ২৪ মে থেকে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে ১৩ মার্চ হল খোলার যে সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছিল তা স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বেলা সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তবে আলটিমেটাম অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।
সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপাচার্য বলেন, আগে যে রুটিন ছিল তা আর থাকছে না। ১৩ মার্চকে কেন্দ্র করে যে পরীক্ষাগুলোর ঘোষণা ছিল, সেগুলো থাকবে না। এগুলো স্থগিত করা হলো। তিনি বলেন, হলে ওঠার প্রস্তুতি নিতে দুই সপ্তাহ সময় লাগে। সেজন্য অনুষদ ও বিভাগ সমন্বয় করে ১৭ মের দুই সপ্তাহ পর থেকে এ কার্যক্রম চলবে। উপাচার্য বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বড় কোনো পরীক্ষা এখন নেব না। বিভাগীয় পর্যায়ে নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের সম্মতি, সামর্থ্য ও সুরক্ষা লাগবে। এখন হল খোলার জন্য টিকা নেওয়া পূর্বশর্ত।
অধিভুক্ত কলেজের পরীক্ষার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, সাত কলেজের পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রেও ১৭ মের পূর্বের পরীক্ষাগুলো অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। সভায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যগণ অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন।
হলে উঠতে হলে টিকা নিতে হবে
শিক্ষার্থীদের হল খোলার ১ মাস আগে অর্থাত্, আগামী ১৭ এপ্রিলের মধ্যে করোনা ভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিকার প্রথম ডোজের কার্যক্রম শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম বহাল
এদিকে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের পর হল খোলার বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক জুনায়েদ হোসাইন খান বলেন, আমরা ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি এবং এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করব। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সভা আছে এটাও আমরা পর্যবেক্ষণ করব এরপর আমাদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করব।
ছাত্রলীগ একমত প্রশাসনের সঙ্গে,
অন্যরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটসহ অন্য সব সংগঠন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে রয়েছে বলে জানিয়েছে অধিকাংশ ছাত্র সংগঠন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আমানুল্লাহ আমান বলেন, সারা দেশে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, আদালতের কিছুই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে না। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের সবকিছুই স্বাভাবিক চলছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে দেওয়া উচিত।
এর আগে গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবসিক হল খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশ শেষে সব বর্ষের জন্য হল খুলে দেওয়ার দাবিতে উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি প্রদান করেন। এরই মধ্যে দুপুরে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসে আগামী ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হল খোলা ও ২৪ মে থেকে পাঠদান কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।