সরল পল্লীবালার গল্প

আরিফ মঈনুদ্দীন

 

বুনো বাতাসের গন্ধে কী এক মায়ার টান

ধূসর মাটির শরীর সেও তো কম যায় না মোটেই

আমাকে টেনে ধরার প্রাণান্তকর চেষ্টায়

হঠাত্ সাফল্যে বাজি-ধরা প্রেমিকার হাসি—

আমি তার হাতের মুঠোয়

কী এক নরম পরম শ্লাগায়

তার দুধে-আলতা রঙে নতুন রঙের খেলা

 

পৃথিবী প্রলয় হয়ে যাক, একটি ঐশ্বর্যভরা চুম্বনের বিনিময়ে

প্রলয়কাণ্ড দেখেও আর আফসোস করবো না—

এই আত্মবিশ্বাসের পায়ে সমূহ সৌন্দর্য ঢেলে দিয়ে

বিকারহীন দাঁড়িয়ে আছে লিবার্টি অব স্ট্যাচু

আলম্ব দাঁড়িয়ে আছে গুস্তাবের আইফেল টাওয়ার,

প্রশ্রয়ের চিরকালীন আহ্লাদে আমি বার বার দেখি—

প্রসারিত হাত, টানটান বুক, বেপথু অধর, ঔষ্ঠের প্রবল পরাক্রম শান

কোন পথে যাবো বলো,

পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছে সে

আমার রূপসী বাংলার সরল পল্লীবালা

 

মত পরিবর্তনে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখি—

শালপ্রাংশু অবয়বে মাদকতা ঢেলে দিয়ে উদ্বাহু দু’হাত

প্রশংসায় ঝরে পড়ে টুপটাপ জল

চোখের কার্নিশ বেয়ে শ্রাবণের নদী

আলতো ছোঁয়ায় জড়িয়ে ধরে আমাকে

কোথাও যাবো না—বলি, একটিই তো ঘর

এ আমার দেশ—যেখানে সে আছে, আমি আছি তার বুকের ভেতর