নওগাঁয় আমের ভালো ফলনের সম্ভাবনা

আমবাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত নওগাঁর চাষিরা

তন্ময় ভৌমিক, নওগাঁ প্রতিনিধি

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নওগাঁয় গাছে গাছে ব্যাপক আকারে আমের মুকুল এসেছে। অনেক গাছে গুটি দেখা দেওয়ায় আম পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। গত বছর করোনা ভাইরাসের কড়াকড়ির সময় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারসহ প্রশাসনের সহযোগিতায় আমের ভালো দাম পেয়েছেন চাষিসহ সংশ্লিষ্টরা। নওগাঁয় এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। তাই এ বছরও সারা দেশে আম সরবরাহে খাদ্যমন্ত্রীসহ প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

নওগাঁর সাপাহার সদরের আমবাগানের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আগে বরেন্দ্রভূমির এসব জমিতে শুধু বর্ষা মৌসুমে ধানসহ সবজি চাষ হতো। কিন্তু এখন ধানের চেয়ে আম চাষে কয়েক গুণ লাভ হওয়ায় প্রতি বছর আমবাগান গড়ে উঠছে। অপর এক বাগানের ম্যানেজার নরেশ চন্দ্র জানান, ইতিমধ্যে আমবাগানে গাছে গাছে ব্যাপক মুকুল ধরেছে। আবার অনেক গাছে আমের গুটি এসেছে। সাপাহার উপজেলা সদরের চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা সাখওয়াত হোসেন জানান, গত বছর দুই থেকে সাত বছর বয়সের প্রতি বিঘা আমবাগান বিক্রি করেছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়। এ বছর আবহাওয়া ভালো এবং রোগবালাই না থাকায় গত বছরের তুলনায় আমের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ার আশায় রয়েছেন। প্রতি বিঘায় আম ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

সাপাহার আম ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত জানান, করোনার মধ্যেও গত বছর নওগাঁর সাপাহার বাজার থেকে ৮০০ কোটি থেকে ৯০০ কোটি টাকার আম সারা দেশে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। গত বছরের মতো খাদ্যমন্ত্রীসহ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এই আম ব্যবসায়ী নেতা।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুল ওয়াদুদ জানান, সারা দেশে নওগাঁর আমের চাহিদা থাকায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। ফলে কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নওগাঁয় এবার প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন আম উত্পাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ জানান, আম বিপণনে গত বছরের মতো এ বছরও সরকারিভাবে চাষিদের সব সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।