মেয়র প্রার্থীকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় ইসির তদন্ত কমিটি

মাদারীপুর জেলার কালকিনি পৌরসভার নির্বাচনি মাঠ থেকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজকে পুলিশের গাড়িতে তুলে ঢাকায় নেওয়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোরশেদ আলম স্বাক্ষরিত এক স্মারকপত্রে এই কমিটি গঠন করা হয়। সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হলেন নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক হুময়ুন কবির। সদস্যরা হলেন—নির্বাচন কমিশনের শৃঙ্খলা ও আপিল বিভাগের উপসচিব খোরশেদ আলম ও আইন বিষয়ক-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবু ইব্রাহীম। স্বতন্ত্র প্রার্থী নিখোঁজের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশের ভূমিকা, দোষী ব্যক্তিকে চিহ্নিতকরণ, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, ভবিষ্যতে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে এ ব্যাপারে সুপারিশের বিষয়ে তদন্তে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে।     উল্লেখ্য, কালকিনি পৌরসভার স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ গত ৬ ফেব্রুয়ারি পৌর এলাকার পালপাড়ায় নির্বাচনি প্রচারণার সময় কালকিনি থানার ওসি নাছিরউদ্দিন তার গাড়িতে করে তাকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসানের কাছে মাদারীপুরে নিয়ে আসেন। পরে পুলিশ সুপারের গাড়িতে করে সবুজকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সবুজের ফোন বন্ধ পেয়ে বিষয়টি নিখোঁজ দাবি করে বিক্ষোভ করে কালকিনি থানা ঘেরাও করে সবুজের কর্মী-সমর্থকরা। পরবর্তী সময়ে নৌকা প্রার্থী এস এম হানিফের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। অবশ্য ১৪ ঘণ্টা পর নিজ বাড়িতে ফেরেন সবুজ। কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। স্বতন্ত্র প্রার্থী নিখোঁজের ঘটনায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কালকিনি পৌরসভা নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি আমরা হাতে পেয়েছি।’