বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও খ্যাতিমান ব্যাংকার খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ... রাজিউন)। গতকাল বুধবার লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ভোর পৌনে ৬টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
গতকাল সকাল ১১টায় সেগুনবাগিচার কচি-কাঁচার মেলা প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দ্বিতীয় জানাজা শেষে জন্মভূমি গোপালগঞ্জ সদরে নিয়ে সেখানে তাকে দাফন করা হয়।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের ভাই সাংবাদিক খোন্দকার মুহাম্মদ খালেদ ইত্তেফাককে বলেন, আমার ভাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রথমে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে ১২ দিন চিকিত্সাধীন ছিলেন। সেখানে চিকিত্সাধীন থাকাবস্থায় তিনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন। পরে পোস্ট কোভিড জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে শুরুতে তিনি আইসিইউতে ছিলেন। মঙ্গলবার রাত ৮টায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল তাকে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সুষ্ঠু বিকাশে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যে মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন তা এদেশের মানুষ আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। রাষ্ট্রপতি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অন্য শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের বিকাশে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এছাড়া শোক জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শোক
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবর্গ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোকবার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শোক প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী; বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ।
এছাড়াও শোক প্রকাশ করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহিরয়ার আলম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন; পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেসা।
একই সঙ্গে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, সোনালী, বাংলাদেশ কৃষি, অগ্রণী ও পূবালী ব্যাংক পরিবার, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত ও সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি শারমীন রিনভী, সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম প্রমুখ।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৪১ সালে গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোলে স্নাতকোত্তর করার পর আইবিএ থেকে এমবিএ করেন। ১৯৬৩ সালে যোগ দেন ব্যাংকিং পেশায়। ২০১১ সালে বাংলা একাডেমি তাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে। ব্যাংকিং ও অর্থনীতি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে ২০০৯ সালে ‘খান বাহাদুর আহছানউল্লা স্বর্ণপদক’ ও ২০১৩ সালে ‘খান বাহাদুর নওয়াব আলী চৌধুরী’ জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০০০ সাল থেকে তিনি কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার পরিচালক, নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
জাতীয় পার্টি-জেপির শোক
সততা ও নিষ্ঠার অনন্য প্রতীক খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম। জেপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক এম সালাহ উদ্দিন আহমেদ গতকাল এক শোকবার্তায় বলেন, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ নির্ভয়ে সত্য কথা বলতেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন বরেণ্য দেশপ্রেমিককে হারাল। গতকাল কচি-কাঁচার মেলা প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাদেক সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা রোকেয়া আক্তার খানম রঞ্জু।