হাফেজ আহমাদ উল্লাহ (রহ)

গত বুধবার রাত ১০টায় আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে হাফেজ আহমাদ উল্লাহ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি ছিলেন একজন সাংবাদিক, দৈনিক যুগান্তরের সাবেক সিনিয়র সহসম্পাদক। ২১ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি যুগান্তরের ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতাটি সম্পাদনা করেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন তিনি এই পত্রিকার ‘ঢাকা আমার ঢাকা’ ও ‘পরবাস’ পাতার বিভাগীয় সম্পাদক ছিলেন। হাফেজ আহমাদ উল্লাহ কেবল একজন সিনিয়র সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন হাফেজে কোরআন, সুফি, গবেষক, কথাসাহিত্যিক, ছড়াকার ও লেখক। সংবাদপত্রে ইসলামি ফিচারে তিনি নতুনমাত্রা যোগ করেন। তার বড় পরিচয়—তিনি লেখালেখির একজন পৃষ্ঠপোষক। বহু নবীন লেখক তার হাতের ছোঁয়ায় বড় হয়েছেন। হাফেজ আহমাদ উল্লাহ ১ নভেম্বর ১৯৫৮ সালে নরসিংদী জেলার চরবধিয়ামারা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যজীবনে  কোরআনুল কারিমের হেফজ শেষ করে তিনি প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপন শেষে সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—১. বকলম (১৯৮৩) ২. ইনুনি বিনুনি (১৯৮৬) ৩. হারিয়ে যেতে নেই মানা (১৯৮৮) ৪. কাঁচা গাব পাকা গাব (১৯৯০) ৫. রাজাকারের কেচ্ছা (১৯৯০) ৬. চিরদিনের রূপবান (১৯৯০) ৭. আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা (১৯৯২) ৮. পাঁচ কুড়ি ছড়া (১৯৯৭)। এছাড়া পঞ্চম জাতীয় সংসদ সদস্য প্রামাণ্য গ্রন্থটি ১৯৯২ সালে তিনি সম্পাদনা করেন। একুশ শতকের শুরুর দিকে তিনি এক ঝাঁক তরুণ আলেম সাংবাদিক ও লেখক তৈরি করেন, যে কাফেলায় আমিও ছিলাম। সব গোড়ামি পরিহার করে আলেম সমাজকে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার আহ্বান জানান। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে হাফেজ আহমাদ উল্লাহ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা সংস্কার নিয়ে তরুণ আলেমদের দিয়ে ব্যাপক লেখালেখি করান। যার ফলে কওমি শিক্ষার্থীরা আরবি শিক্ষার পাশাপাশি মাতৃভাষা ও সাহিত্য চর্চায় ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসে। আল্লাহ হাফেজ আহমাদ উল্লাহর সব খেদমত কবুল করুন, তাকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন। আমীন!

lলেখক :বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক ও ধর্মীয় আলোচক