মোহামেডানের নির্বাচন

সভাপতি পদে তিন প্রার্থী মনোনয়ন তুললেন

মোহামেডানের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রীড়াঙ্গন সরব। মতিঝিলিস্থ ক্লাব টেন্টে সংগঠক, সাবেক খেলোয়াড়দের ভিড়। গতকাল ছিল মনোনয়ন কেনার শেষ দিন। তবে যারা যারা মনোনয়ন তুলেছেন তাদের বেশির ভাগই প্রতিনিধি পাঠিয়ে মনোনয়নপত্র তুলেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সভাপতি পদে মনোনয়ন তুলেছেন অবসর প্রাপ্ত সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল মো: আবদুল মুবীন। তিনি মনোনয়ন তোলার আগে দিনের শুরুতেই বর্তমান সভাপতি ওবায়দুল করিম পুনরায় সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন তোলেন। বিকালে ঢাকা ৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ সভাপতি পদে মনোনয়ন তুলেছেন।

তিন জন সভাপতি পদ ছাড়াও গতকাল পরিচালক পদে ৫১টি মনোনয়ন তুলেছেন ৫১ প্রার্থী। সোমবার বিকাল ৩টা হতে ৬টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল। ৬ মার্চ নির্বাচন।

গতকাল যারা মনোনয়নপত্র তুলেছেন তাদের বেশির ভাগই নিজে মোহামেডান ক্লাবে গিয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করেননি। প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন। সভাপতি পদে হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত থাকবেন আর কে থাকবেন না সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। ১৬টি পরিচালক পদে নির্বাচন হবে, ৫১টি মনোনয়ন বিক্রি হয়েছে। এই তালিকায় হেভিওয়েট প্রার্থীর নামও এসেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী, পার্টেক্স গ্রুপের শওকত আজিজ রাসেল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মহিউদ্দিন, খোন্দকার জামিল, কবীর আহমেদ ভুইয়া, আনোয়ারুল হক হেলাল, সাবেক ফুটবলারদের রয়েছেন ইমতিয়াজ সুলতান জনি, সাব্বির, জাকারিয়া পিন্টু, প্রতাপ শংকর হাজরা, হানিফ, তরফদার রুহুল আমিন, সাজেদ আদেল, ছাইদ হাসান কানন, হানিফ ভুইয়া, সারওয়ার হোসেন, আব্দুর রব মাহবুব, লোকমান হোসেন ভুইয়া, আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স, মাসুদুজ্জামান উল্লেখযোগ্য।

নির্বাচনকে ঘিরে কাল দুপুর হতেই মোহামেডান টেন্টে ভিড়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবীর কাওছার জানালেন হাইকোর্টের নির্দেশে এই নির্বাচন হচ্ছে। এখন পর্যন্ত খুব ভালোভাবে নির্বাচনি কর্মকাণ্ড এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে ৩৩৭ জন ভোটার রয়েছেন। যারা ভোটার তারা সবাই নির্বাচন করার অধিকার রাখেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মোহামেডানের বোর্ড মিটিং হতে তালিকা পেয়েছি। এখানে যোগ্যতা অযোগ্যতার বিষয় না। কোনো প্রশ্নে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাউকে দোষী বলতেও পারব না।’

মোহামেডান টেন্টে গিয়ে দেখা গেল টুকরো টুকরো গ্রুপে সবাই নির্বাচনি বিষয়ে ব্যস্ত। জনি, সাব্বির, রিয়াজ আহমেদ, ফজলুর রহমান বাবুলরা একদিকে। আবার অন্যদিকে গল্পে ব্যস্ত মোস্তাকুর রহমান, সারওয়ার হোসেন, কাননসহ অন্যরা। সাব্বির নির্বাচন চান না। নির্বাচন হলে অযোগ্য ব্যক্তি ঢুকে পড়বে। যাদের টাকা দেওয়ার ক্ষমতা আছে তারাই একটা সিলেকশনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করুক। রিয়াজ আহমেদ বলছেন যারা ক্লাবের খবরই নিত না তারা আবার এসে পরিচালক পদে নির্বাচিত হবেন। আমি যদি সত্যিকার অর্থে মোহামেডানকে ভালোবাসি, মোহামেডানের মঙ্গল কামনা করি তাহলে যার যোগ্যতা আছে তাকে পথ ছেড়ে দেব না কেন।’ পালটা যুক্তি মোস্তাকুর রহমানের। তিনি বললেন, ‘নির্বাচন হওয়টাই ভালো। তাতে কাজের দায়িত্ব থাকে। ভালো কিছু করার পিছুটান থাকবে।’