রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের কালামছড়া খালে বাঁধ দিয়ে একাংশ ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে কৃষকদের আবাদি জমিতে সেচ সংকট সৃষ্টি হয়ে ফসল উত্পাদন বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিকার চেয়ে গ্রামবাসী স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বন বিভাগ বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কালামছড়া গ্রামের কৃষক আলী মিয়া অভিযোগ করে জানান, শুষ্ক মৌসুমে তারা কালামছড়া খালের পানি দিয়ে বোরো আবাদসহ শাকসবজি চাষাবাদ ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে জীবিকানির্বাহ করে আসছিল। এমতাবস্থায় খালটি জবরদখল করে শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে চাষাবাদের জমি তৈরিসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির ফলে খালটিতে পানির প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই এলাকার কৃষক জালাল মিয়া জানান, কালামছড়া গ্রামের এক ব্যক্তি স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে পাহাড় কেটে মাটি ফেলে কালামছড়া খালটি ভরাটের মাধ্যমে শ্রেণি পরিবর্তন করায় খালের উভয় পার্শ্বে শতাধিক একর জমি অনাবাদি পড়ে থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আবুল হোছন ও রমিজ আহমদ জানান, কালামছড়া গ্রামের শতাধিক পরিবার বন বিভাগের আওতাধীন এ খালের পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে চাষাবাদ করে এলেও চলতি মৌসুমে খালে অবৈধভাবে বাঁধ দেওয়ার ফলে এলাকার কৃষকেরা চাষাবাদ বঞ্চিত হয়ে আসছেন।
রাজাপালং ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, দুর্গম এলাকায় বসবাসরত হতদরিদ্র পরিবারগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের ব্যবহূত জমিজমা চাষাবাদের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। তা না হলে কৃষক পরিবার-পরিজনসহ অভাব অনটনে পড়বেন। স্থানীয় বন বিভাগকে অবিলম্বে কালামছড়া খালটি দখলমুক্ত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। উখিয়া উপজেলা বন রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী মো. শফিউল আলম বলেন, গ্রামবাসীর স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে কালামছড়া খাল দখলমুক্ত করে অবৈধভাবে খাল ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অবিলম্বে তা কার্যকর করা হবে।