‘টেস্ট ক্রিকেটের বাজে বিজ্ঞাপন’

মোতেরার পিচ নিয়ে সমালোচনার ঝড়

স্পোর্টস ডেস্ক

অনেক ঢাকঢোল পিটিয়েই মোতেরায় শুরু হয়েছিল ভারত-ইংল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় টেস্ট। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এই স্টেডিয়ামটি ক্রিকেটেরই একটি নতুন বিজ্ঞাপন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই মাঠের প্রথম পাঁচ দিনের ম্যাচটিই শেষ হয়েছে পৌনে দুই দিনে। ১৯৩৫ সালের পর বৈশ্বিকভাবেই সবচেয়ে ক্ষণস্থায়ী টেস্ট উপহার দেওয়া মোতেরার পিচের সমালোচনায় তাই স্বাভাবিকভাবেই সরব হয়েছে ক্রিকেট দুনিয়া। মাইকেল ভন, ভিভিএস লক্ষণ, যুবরাজ সিং, কেভিন পিটারসনের মতো সাবেক ক্রিকেটাররা ইতিমধ্যে এই পিচের সমালোচনা করেছেন কোনো রাখঢাক না রেখেই।

এরকম স্পিন-বান্ধব পিচ ভারতে নতুন না। প্রতিবারের মতো এবারের চেন্নাই টেস্টেও স্পিন-বান্ধব পিচই বানানো হয়েছিল। কিন্তু মোতেরার পিচ যেন স্পিনিং পিচকে নতুন সংজ্ঞা দিয়েছে। ম্যাচের প্রথম সেশনেই পিচের দুই পাশে ধুলা উড়তে দেখা গেছে। দ্বিতীয় দিনে তো জো রুটের মতো একজন পার্টটাইমার ‘স্পিন জাদুকর’ বনে গেলেন। পুরো টেস্ট শেষ হয়েছে মাত্র ১৪০.২ ওভারে। গত ৮৬ বছরে এরচেয়ে ছোট কোন টেস্ট ম্যাচ দেখেনি ক্রিকেট বিশ্ব। সাবেকদের সব হতাশা যে পিচের ওপরই গিয়ে পড়বে তা জানাই ছিল। ম্যাচশেষে ভারত দলের সাবেক ব্যাটিং তারকা ভিভিএস লক্ষণ বলেছেন, ‘এটা টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আদর্শ পিচ ছিল না। এমনকি ভারতের ইনিংসেও ভরাডুবি নেমেছিল।’ সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন একরকম কটাক্ক করেই বললেন, ‘এরকম পিচেই যদি খেলা হয়, তাহলে এটাকে কাজে লাগানোর জন্য একটি উপায় বাতলে দিতে চাই আমি। প্রতি দলকে তিনটা করে ইনিংস দাও।’

যুবরাজ সিং তো কটাক্কের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিলেন, ‘২ দিনেই শেষ। মনে হয় না এটা টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ভালো। অনিল কুম্বলে ও হরভজন সিং যদি এরকম উইকেটে বল করত তাহলে তারা এখন এক হাজার, ৮০০ খানেক উইকেটের ওপর বসে থাকত।’

সাবেকদের সঙ্গে সমালোচনার মিছিলে যোগ দিয়েছে ক্রিকেট বিশারদরাও। বিবিসি, উইজডেনের মতো সংবাদমাধ্যমগুলোও তুলোধুলো করেছে মোতেরার পিচকে। এরকম বাজে পিচের জন্য আইসিসির পক্ষ থেকে স্বাগতিকদের পয়েন্ট কাটার দাবিও জানাচ্ছেন অনেকে।

বলের হিসাবে সবচেয়ে ক্ষণস্থায়ী টেস্ট

ম্যাচ                            বল       স্থান               বছর

অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৫৬     মেলবোর্ন      ১৯৩২

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ড     ৬৭২     ব্রিজটাউন     ১৯৩৫

ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া          ৭৮৮    ম্যানচেস্টার   ১৮৮৮

ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া          ৭৯২     লর্ডস          ১৮৮৮

দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড   ৭৯৬     কেপ টাউন   ১৮৮৯

ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা   ৮১৫     ওভাল          ১৯১২

ভারত-ইংল্যান্ড               ৮৪২     আহমেদাবাদ ২০২১   

(ফলাফল হয়েছে শুধু এমন ম্যাচের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)