স্পোর্টস রিপোর্টার
আগের দিন মোহামেডানের নির্বাচনে মনোনয়ন কেনার জন্য ক্লাব টেন্টে বেশি ভিড় ছিল। তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে অনেকেই দূর থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়ে মনোনয়ন তুলেছেন। যারা শীর্ষ পর্যায়ের মানুষ তারা প্রতিনিধি পাঠিয়ে মনোনয়ন তুলবেন এটা স্বাভাবিক। আর যারা নিজেরাই গাড়ি চালিয়ে দৈনন্দিন কাজ সারেন তাদের অনেকেই প্রতিনিধি পাঠিয়ে মনোনয়ন তুলেছেন। আবার কেউ ১ লাখ টাকা পাঠিয়ে এক সঙ্গে ১০ নামে ১০টি মনোনয়ন তুলে নিয়েছেন। নির্বাচন বলে কথা। পরিচালক পদে ১৬ জন নির্বাচিত হবে। মনোনয়ন বিক্রি হয়েছে ৫১টি। ৬ মার্চ নির্বাচন।
অর্ধশতাধিক মনোনয়ন বিক্রি দেখে মনে হতে পারে মোহামেডানকে ভালোবাসার লোকের অভাব নেই। কে কার আগে পরিচালক হবেন তা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ। অথচ মোহামেডানের খেলা দেখতে ক্লাব হতেও অর্ধশতাধিক মানুষ আসতে দেখা যায় না। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে চিরচেনা পোড়খাওয়া কিছু মানুষ আছেন যারা এখনো পকেটের টাকা খরচ করে মোহামেডানকে ভালোবেসে গ্যালারিতে বসেন। আর মোহামেডান ফুটবল দলের সঙ্গে মাঠে আসেন হাতে গোনা দুই একজন। কালও এমনটাই দেখা গেল। দুই সাবেক ফুটবলার আলফাজ আহমেদ এবং ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব দল নিয়ে স্টেডিয়ামে যান। এটা তাদের দায়িত্ব সঙ্গে চাকরি। এদের সঙ্গে বিদেশি কোচ, কোচিং স্টাফ বলতে আর দুই একজন। দুই একজন কর্মকর্তাও আসেন। তবে মোহামেডানের মতো এতো বড় সংগঠনের সঙ্গে গুটিকয়েক জন বড্ডবেমানান। যেসব সাংবাদিক নিয়মিত খেলা কাভার করেন তারা জানেন কয়টি ক্লাব হতে কয়জন কর্মকর্তা মাঠে আসেন। দলের প্রতি তাদের ভালোবাসার জায়গাটা কতটুকু মজবুত।
পরিচালক পদ পেতে লড়াই করছেন। তাদের মধ্যে কয়জন আছেন যারা চলতি প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে মোহামেডানের পয়েন্ট কতো বলতে পারবেন। কোন ম্যাচ হেরেছে, কোন ম্যাচ জিতেছে, মোহামেডানের অনুশীলন মাঠ নেই কেন, খেলোয়াড়দের সমস্যা কোথায়, খেলোয়াড়দের আবাসন ব্যবস্থার অবস্থাটা কি। প্রশ্ন উঠছে মোহামেডানকে ভালোবাসা নাকি মোহামেডানের চেয়ারে বসা। যদি ভালোবাসার জায়গা হতেই নির্বাচন করা, তাহলে কালকের ম্যাচ ঘিরে হলেও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কর্মকর্তায় ঠাঁসা সরব উপস্থিতি দেখা যেত। জমজমাট থাকতে পারত মাঠ।
পরিচালক পদে মনোনয়ন তুলেছেন যারা
জাকারিয়া পিন্টু, মাসুদুজ্জামান, হানিফ ভুঁইয়া, তরফদার রুহুল আমীন, আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স, সাজেদ আদেল, কামরুন নাহার ডানা, ছাইদ হাছান কানন, সারওয়ার হোসেন, আব্দুর রব মাহবুব, খোজেস্তা-নূর-ই-নাহরিন, প্রতাপ শংকর হাজরা, জামাল রানা, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, শরীফুল আলম, ইকরামুল হক, সাব্বির, এম এ সালাম, মোস্তাকুর রহমান, লোকমান হোসেন ভুঁইয়া, প্রকৌশলী শেখ মো. শোয়েব উদ্দীন, রাফেউজ্জামান, মাহবুব উল আনাম, প্রকৌশলী গোলাম মো. আলমগীর, আব্দুল লতিফ জনি, প্রকৌশলী কবির আহমদ ভুঁইয়া, মইন উদ্দিন হাসান রসিদ, মঞ্জুর আলম, মোস্তফা কামাল, হাজী আবু সায়েম শাহিন, শওকত আজিজ রাসেল, ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, ফজলুর রহমান বাবুল, রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বির, রেজাউল করিম, ডা. মতিউর রহমান, ফেরদাউস জামান, আশরাফুল আলম, আরিফুল হক প্রিন্স, সঞ্জয় রায়, মমিনুল হক সাঈদ, আব্দুস সালাম মুর্শেদী এমপি, শফিকুল ইসলাম মহিউদ্দিন এমপি, সিদ্দিকুর রহমান, ফারুক হাসান, চৌধুরী নাফিস সরাফত, সালমান ওবায়দুল করিম, আনোয়ারুল হক হেলাল, খন্দকার জামিল উদ্দিন, হারুনুর রশিদ।