অনুমতি না পেলেও খুলনায় সমাবেশ করেছে বিএনপি

অনুমতি না পেলেও গতকাল শনিবার খুলনায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে মঞ্চ ছাড়াই বিভাগীয় সমাবেশ করেছে বিএনপি। সারা দেশের সঙ্গে বাস-লঞ্চসহ সকল প্রকার পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধের মধ্যে এই সমাবেশস্থলে আসার পথে নেতাকর্মীরা পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়।

খুলনা মহানগরের দুই স্থানে সমাবেশ করার অনুমতি চাওয়া হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনুমতি না দেওয়ায় গতকাল শনিবার বেলা ৩টায় খুলনা শহরের কেডি ঘোষ রোডস্থ দলের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে মহানগরীর প্রত্যেকটি মোড়ে মোড়ে বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। এ সময় সমাবেশস্থলে আগত মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। বিপত্তির পরেও সমাবেশে দলটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।         পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সমাবেশে দলের নেতারা বলেন, এ সরকারের কাছে দাবি করে কোনো লাভ নেই। চুপ করে থাকলে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রও থাকবে না। আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমেই এ সরকারের বিদায় করে সত্যিকারের জনগণের সরকার কায়েম করতে হবে। অনেক বাধা বিপত্তির পরেও হাজার হাজার জনতা সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সরকার পতনের ডাক দিয়েছে। এ বছরই সরকারের শেষ সময়। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম। বক্তব্য রাখেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, মশিউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, পাঁচ মহানগরের বিএনপির পরাজিত মেয়র প্রার্থী বরিশালের অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার, চট্টগ্রামের ডা. শাহাদাত হোসেন, রাজশাহীর মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, ঢাকা উত্তরের তাবিথ আউয়াল, ঢাকা দক্ষিণের ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী রুমি, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি সোহরাব উদ্দীন, কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুজ্জামান খান শিমুল, সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।

ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো দিন সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে ব্যালট পেপার ঢাকায় এনে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদকে পরাজিত করে বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাককে জেতানো হয়েছিল। বর্তমানের বিনা ভোটের এমপিরা খন্দকার মোশতাকের মতো কবে বেইমানি করে তাও বলা যায় না। জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি, তিনি রণাঙ্গনেও যুদ্ধ করেছেন। বীর উত্তম খেতাব জিয়াউর রহমানের অর্জন। এ খেতাব কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। রাজাকার আওয়ামী লীগ করলে বিরাট মুক্তিযোদ্ধা। আর জিয়াউর রহমান, শাহজাহান ওমররা বিরাট রাজাকার।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সমাবেশ পণ্ড করার জন্য পুলিশ বাড়ি বাড়ি যেয়ে ভয়ভীতি দেখায়। দুদিনে ৩১ জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তার পরও মহাসমাবেশ সফল করেছে। তিনি দুঃখজনক বর্ণনা দিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের খাবার হোটেলে পুলিশ তালা দিয়েছে। খেয়াঘাট-বাস বন্ধ করে দিয়েছেন। এটি তাদের প্রতিহিংসার ফল।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এ বছরই সরকারের শেষ সময়। ২০২১ সাল হচ্ছে পরিবর্তনের বছর। এই বছর খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন, তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, একমাত্র ফরিদপুর থেকেই ৫০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। ইশরাক হোসেন বলেন, কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদকে হত্যা করা হয়েছে। তাবিথ আওয়াল বলেন, জালিম শাসক আমাদের পথে পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। তার পরও মহাসমাবেশ ঠেকাতে পারেনি। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব উধাও করে দেওয়া হবে তা বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ বরদাশত করবে না।

মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, গত চার দিন ধরে খুলনার মানুষ অবরুদ্ধ রয়েছে। মুজিবুর রহমান সারোয়ার বলেন, সরকার উন্নয়নের রাজনীতির কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমাদের মাঠে নামতে হবে।