আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, রক্ত দিয়ে অর্জিত এ দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। আজকের উগ্র সাম্প্রদায়িকতার উত্সমুখ জিয়াউর রহমানই উন্মুক্ত করেছিলেন।
গতকাল শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের রাজধানীতে তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সম্মেলনে যুক্ত হন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার মূল্যবোধকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি জয়বাংলাকে নিষিদ্ধ করেছিলেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে তার ভূমিকা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। জিয়াউর রহমান নিজেই নিজেকে বিতর্কিত করেছেন। তিনি বলেন, একজন সেক্টর কমান্ডারের এমন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি তোষণ ও পোষণনীতিতে ইতিহাস নিজেই জিয়াউর রহমানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
১৫ই আগস্ট পৃথিবীর ইতিহাসের নির্মম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের প্রধান বেনিফিশিয়ারি ছিলেন জিয়াউর রহমান—এ কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জিয়াউর রহমানই খুনিদের পুনর্বাসন করেছিলেন, বিভিন্ন দূতাবাসে দিয়েছেন এবং খুনিদের বিদেশে পালিয়ে যেতেও সহযোগিতা করেছেন। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির জনক।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করতে হবে। বিতর্কিত ও বসন্তের কোকিলদের দলে আনা যাবে না। তিনি বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে যারা দলের বিদ্রোহী হিসেবে প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের আর কখনো দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। দলেও থাকবে না তাদের পদ-পদবি। একই সঙ্গে এদের যারা মদত দিয়েছেন, কেন্দ্র তাদেরও তালিকা প্রস্তুত করছে।
আজ অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উত্সবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, অন্যান্য ধাপের মতো আজকের নির্বাচনেও সরকার কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করবে না। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়ন কমিটি সভা করে এক থেকে তিন জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করে দলের ইউনিয়ন কমিটির রেজুলেশন বা লিখিত সুপারিশ উপজেলা ও জেলা কমিটির স্বাক্ষরসহ ধানমন্ডির দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্থানীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং পৌর মেয়র এস এম নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক মেরিনা জাহান কবিতা, আব্দুল আওয়াল শামীম, তানভীর ইমাম এমপি, অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ এমপি প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ২০০৩ সালে সর্বশেষ উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।