প্রতিনিধি পরিষদে পাশ বাইডেনের করোনা রিলিফ বিল

করোনা মহামারির কারণে দুর্বল হওয়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও মার্কিনিদের কাছে জরুরিভিত্তিতে নগদ অর্থ পাঠানোর জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের রিলিফ প্যাকেজ বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটি ২১৯-২১২ ভোটে বিলটি পাশ হয়। দুই জন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান প্যাকেজটি অনেক বেশি ব্যয়বহুল দাবি করে বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। আর রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যানরা বিলটির বিরুদ্ধেই ভোট দেন। ফলে বিলটি দ্বিদলীয় সমর্থিত হয়নি বরং ডেমোক্র্যাট পার্টি লাইনে অনুমোদন পেয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি হাউজে বিতর্কের সময় বলেন, মার্কিনিদের জানা উচিত যে—তাদের সরকার তাদের জন্য এখানে আছে।  এখন বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাশ হতে হবে। যদিও সিনেটের     পার্লামেন্টারিয়ানরা (উপদেষ্টা কাউন্সিল) জানিয়েছেন, বিলটিতে ঘণ্টায় ন্যূনতম মজুরি ১৫ মার্কিন ডলার প্রদানের ধারা যুক্ত হবে না। রিলিফ প্যাকেজের পাশাপাশি রিপাবলিকানরা মজুরি বাড়ানোর প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করে আসছে।

আগামী সপ্তাহে বিলটি নিয়ে সিনেটে বিতর্ক হতে পারে। সেখানে বর্তমানে দুই দলেরই আসন সংখ্যা সমান (৫০-৫০)। যদি দুই দলের সিনেটররা দলীয় লাইনে ভোট দেন সেক্ষেত্রে টাই ব্রেকার হিসেবে ভোট দেবেন সিনেটের সভাপতি ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। আর যদি কোনো ডেমোক্র্যাট বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন সেক্ষেত্রে বিলটির অনুমোদন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

বাইডেনের পরিকল্পনা অনুযায়ী করোনার কারণে আর্থিক সংকটে থাকা মার্কিন পরিবারগুলো এককালীন ১ হাজার ৪০০ ডলার করে পাবেন। এ খাতে বরাদ্দ হবে ১ লাখ কোটি ডলার। এছাড়া করোনা মহামারি মোকাবিলায় ৪১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য দেওয়া হবে ৪৪ হাজার কোটি ডলার। নতুন বাইডেন প্রশাসনের জন্য এই পরিকল্পনাকে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিলে কোভিড ১৯-এর টিকাদান কার্যক্রম এবং রোগ শনাক্তের পরীক্ষার গতি আরো বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। করোনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে আর প্রায় ১ কোটি লোক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুইবার রিলিফ প্যাকেজ ছাড় করেছিলেন।