বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিখোঁজ হওয়ার ২৩ ঘণ্টা পর আগৈলঝাড়া উপজেলার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ঢাকায় চিকিত্সকের স্ত্রী কর্তৃক নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী নিপা। গতকাল শনিবার ভোররাত ৪টার দিকে আগৈলঝাড়ার আস্কর গ্রামের জনৈক বিমলের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার ইত্তেফাককে জানান, পুলিশ কর্তৃক উদ্ধারের পর ঐ শিশুসহ মানসিক বিকারগ্রস্ত পিতা ও অন্য সদস্যদের সহায়তার জন্য উজিরপুরের নির্বাহী অফিসার ও সমাজসেবা অফিসারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে ঐ পরিবারের দুই বৃদ্ধকে বয়স্কভাতা, এক জনকে প্রতিবন্ধী ভাতাসহ চিকিত্সার জন্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মানসিক বিকারগ্রস্ত পিতার তিন শিশুকে সরকারি শিশু নিবাসে রাখার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।
সূত্র জানায়, নিপা বাড়ৈ নিখোঁজের বিষয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে শিশুটি ও পরিবারের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সহায়তার নির্দেশনা দেন ঊর্ধ্বতনরা। সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ জানান, খবর পেয়েই তাত্ক্ষণিক ঐ পরিবারকে আর্থিক সহায়তাসহ শিশুটিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান।
এদিকে উজিরপুর থানার পুলিশ কর্তৃক শিশু নিপা বাড়ৈকে উদ্ধারের পর শনিবার দুপুরে শিশু নির্যাতন আইনে তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। শিশুটির চাচা তপন বাড়ৈ বাদী হয়ে নির্যাতনে অভিযুক্ত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের ডা. সি এইচ রবিন ও তার স্ত্রী রাখি দাস এবং সহকারী বাসু হালদারের বিরুদ্ধে উজিরপুর মডেল থানায় এ মামলা করেন। শিশুটিকে এভাবে চিকিত্সা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানান, এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ উঠেছে, শিশুটির চাচা তপন বাড়ৈ স্থানীয় ইউপি সদস্য নরেন্দ নাথ (নরেন) বাড়ৈর সঙ্গে যোগসাজশে শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়াসহ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শুরু থেকেই জড়িত ছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, আর্থিক প্রলোভনে নির্যাতনকারীদের পক্ষ হয়ে আপসরফার চেষ্টা চালানো হয়েছে। এ কারণেই তাকে হাসপাতাল থেকে কোনো এক ফাঁকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, নিপা তার স্বজনদের বলেছে, ঢাকায় চিকিত্সক রবিনের বাসায় কাজে সামান্য ভুল করলে তার ওপর চালানো হতো অমানবিক নির্যাতন। গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো শরীরে। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। এমনকি তাকে গলাও টিপে ধরা হতো। চিকিত্সকের স্ত্রীর নির্যাতনে নিপার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতনের কারণে কয়েক দিন আগে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হলে রবিনের এক কর্মচারী তাকে উজিরপুরে ফেলে রেখে যায়।