১৯৭১ সালে দৈনিক ইত্তেফাক (১ মার্চ)

সাহসী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর দৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরুর পর থেকে ইত্তেফাক হয়ে ওঠে গণমানুষের মুখপত্র।  বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিল পত্রিকাটি। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে আপসহীনভাবে সত্য প্রকাশ করে গেছে ইত্তেফাক। পত্রিকাটির এই ভূমিকা উপমহাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।

স্বাধীনতার মাস অগ্নিঝরা মার্চে দৈনিক ইত্তেফাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার মূল খবরের শিরোনাম ছিল ‘পশ্চিম পাকিস্তান মহিলা আসনে নির্বাচন স্থগিত’। ভোটারদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে জাতীয় পরিষদে পশ্চিম পাকিস্তানের মহিলাদের সংরক্ষিত ছয়টি আসনে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। 

মূল খবরের পাশেই স্থান পায় পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বান, ‘আসুন, পরিষদেই সমাধান খোঁজা যাইবে।’ পশ্চিম পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্যদের ঢাকায় এসে ৬ দফা ও ১১ দফা অনুযায়ী শাসনতন্ত্র প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি। তার আশ্বাস ছিল, ‘একজন সদস্যও কোনো ন্যায়সম্মত প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণ করা হবে।’ 

জাতীয় পরিষদে আসা না আসা নিয়ে ধোঁয়াশা প্রসঙ্গে শেখ মুজিব বলেন, ‘৮৩ জন সদস্য নিয়ে আপনি যদি আসতে না চান, ১৬০ জন সদস্য নিয়ে আমরা যদি বলি যাবো না, তাহলে কী হবে?’ 

আওয়ামী লীগ প্রধান দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘আমরা মরবো, তবুও কখনো নতি স্বীকার করবো না।’

নিজের ভাষণে জাতীয় পরিষদের পশ্চিম পাকিস্তানের সদস্যদের অধিবেশনে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে শেখ মুজিব বলেন, ‘আসুন আলোচনায় বসুন। একদিনে না হলে দিনের পর দিন আলোচনা করা যাবে।’

বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেন, বাঙালিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হওয়ায় তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলা হয়। তার কথায়, ‘আমি যখন বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের কথা বলি তখন আমার কথায় পশ্চিম পাকিস্তানের দুঃখী মানুষের কথাই প্রতিফলিত হয়।’

১৯৭১ সালের ১ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় স্থান পায় বঙ্গবন্ধুর আরেকটি খবর। ঢাকা শিল্প ও বণিক সংঘের সংবর্ধনায় দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি কায়েম করবে।’ খবরটির সঙ্গে অনুষ্ঠানে তোলা তার একটি ছবি প্রকাশিত হয়।

ইত্তেফাক/জেএইচ