ঘরে-বাইরে সমানতালে

কথায় আছে—যে রাঁধতে জানে, সে চুলও ভালো বাঁধতে জানে। অর্থাত্ ঘর-বাহির দুটোই সামলাতে জানে সে। এসময়ে নারীদের অনেকের জন্য এ বিষয়টি বেশি প্রাসঙ্গিক। তাদের একই সঙ্গে বাসা ও অফিস—দুটোই সামলাতে হয় জীবনের প্রয়োজনে। ঘরে কোনোরকমে শাড়ি পেঁচিয়ে বসে থাকার বাস্তবতা আজ আর নেই নারীদের। সেইসঙ্গে তারা চান বাইরের জীবনের মতো ঘরেও যেন কাটাতে পারেন পরিপাটি সময়। আর এই পরিপাটি জীবনযাপনকেই বলে সম্পূর্ণ স্মার্টনেস। তাই এবার স্মার্টনেস বজায় রাখার জন্য কিছু আলোচনা। লিখেছেন মেরিনা আহমেদ

বাচনভঙ্গি ও সাবলীল ভাষা

একজন ব্যক্তিকে তার স্মার্টনেস ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করার জন্য সবার আগে যে বিষয়টির প্রতি খেয়াল রাখতে হয়, তা হলো তার কথাবার্তা বলার ধরন। সুন্দর কথাবার্তা দিয়ে সহজেই অন্যকে আকৃষ্ট করা যায়। কথা বলার সময় অবশ্যই কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।

l কথা অবশ্যই গুছিয়ে সুন্দর করে সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে। 

l সব সময় হাসিমুখে কথা বলুন এবং কথা বলার সময় কখনোই মুখে ও কপালে বিরক্তির ছাপ আনবেন না।

l অবশ্যই শুদ্ধ উচ্চারণ এবং কখনো যেন আঞ্চলিক টান না আসে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

l চিত্কার করে কথা বলতে নেই; যতটা সম্ভব নরম ও কোমল কণ্ঠে কথা বলুন।

l কথা বলার সময় অবশ্যই স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হবে এবং অভ্যাসগত শব্দ উচ্চারণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

আচরণে নমনীয় হোন

নিজেকে ব্যক্তিত্ববান ও স্মার্টভাবে অন্যের কাছে প্রকাশ করার জন্য আচার-ব্যবহারের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। নম্র, ভদ্র ও অমায়িক আচার-আচরণ দ্বারা একজন ব্যক্তি তার শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করতে পারে।

l বিনা কারণে কখনোই কারও সঙ্গে ধমকের সুরে কথা না বলাই ভালো।

l যে যাই প্রশ্ন করুক— তার উত্তর দিন সুন্দর, মার্জিত ও অমায়িক ভাষায়।

l যতটা সম্ভব চেষ্টা করুন মেজাজ ঠান্ডা রাখার এবং উগ্র ও অভদ্র আচরণ পরিহার করার।

l কেউ আপনার সঙ্গে অভদ্র ভাষায় কথা বললেও আপনি মাথা ঠান্ডা রেখে সুন্দর ভাষায় বুঝিয়ে তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে করে তার মধ্যেও ভালো হওয়ার অনুভূতি জন্ম নিতে পারে।

l নিচু মনমানসিকতা পরিহার করে এবং দৃষ্টিভঙ্গি সব সময় ইতিবাচক রেখে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন।

নিজেকে সুন্দর রাখতে

নিজের সৌন্দর্যের কথা কে না ভাবে? অন্যের কাছে নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করার ক্ষেত্রে শারীরিক সৌন্দর্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক সৌন্দর্য বলতে শরীরের গঠন, ত্বক, হেয়ার স্টাইল, চলাফেরা ইত্যাদিকে বোঝায়। এজন্য কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

l অফিসে বা বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই ফেসওয়াশ দিয়ে নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করতে হবে।

l হাত-পায়ের নখ ছোট রাখুন এবং নিয়মিত সুন্দর করে পরিষ্কার করুন।

l চেহারার সঙ্গে মিল রেখে হেয়ার কাট করতে হবে। কারণ একেক কাট একেকজনের জন্য মানানসই।

l বাইরে বের হওয়ার আগে চুল সুন্দর করে ব্রাশ করে নিন।

l শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিন ব্যায়াম ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

মানানসই পোশাক পরুন

একজন ব্যক্তির রুচিবোধের পরিচয় পাওয়া যায় তার পোশাক-আশাকের মাধ্যমে। শিক্ষা, কথাবার্তা, আচার-ব্যবহার যতই ভালো হোক না কেন; রুচিশীল পোশাক না ব্যবহার করার কারণে অনেক সময় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। আপনি কোথায় যাচ্ছেন, সেই অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করুন। আসুন তবে জেনে নিই, কোথায় কোন পোশাকে আপনি হয়ে উঠতে পারেন আরও বেশি আকর্ষণীয়।

অফিস

পোশাক :গরমের সময় সুতির পোশাকের বিকল্প নেই। হালকা রঙের টিলেঢালা সুতির সালোয়ার-কামিজ, কুর্তা বা টপস পরুন। সঙ্গে চুড়িদার, কাবলি সালোয়ার বা প্যান্ট। ঘাম ও বৃষ্টিতে হাফসিল্কের পোশাকও আরামদায়ক। রঙের ক্ষেত্রে সাদা, উজ্জ্বল নীল, গোলাপি বা হালকা সবুজ রঙকে প্রাধান্য দিন। শাড়ি পরতে চাইলে কোটা বা শিফন। চিকন পাড়ের তাঁতের শাড়িও পরতে পারেন।

সাজ :অফিসের সাজ হালকা হতে হবে। মুখে শুধু ফেস পাউডার লাগান। চোখে চিকন করে কাজল বা আইলাইনার ও ঠোঁটে ম্যাট লিপস্টিক দিন। সামনের চুল টেনে পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে আটকান বা পনিটেল করুন। অথবা খোঁপা করে কাঁটা গুঁজে দিন। ছোট চুল হলে ব্লো ডাই করে ছেড়েও রাখতে পারেন।

 

বাড়ি

পোশাক :আরামদায়ক সালোয়ার-কামিজ, টি-শার্ট, ট্রাউজার, কুর্তা বা সালোয়ার পরুন। তাঁত, সুতি বা নিট কাপড়কে প্রাধান্য দিন। হাতাকাটা বা বেবি হাতার ফ্রক বা মিডি পরতে পারেন।

সাজ :বাড়িতে থাকলেও ফ্রেশ মুডের জন্য পরিপাটি থাকতে তো বাধা নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে প্রথম কাজ হবে চুল আঁচড়ে বাঁধা। রাতের কাপড়টা পাল্টে নিন।

অনুষ্ঠান

দিনে :দিনে অনুষ্ঠান হলে হালকা রঙের পোশাক নিন। ওয়েস্টার্ন পোশাক বা সালোয়ার-কামিজ পরুন। সুতি ও হাফসিল্কের গর্জিয়াস পোশাকও পরতে পারেন। টপস ও জিন্স সবচেয়ে ভালো। মসলিন, কাতান, জামদানি শাড়িও দিনের অনুষ্ঠানে ভালো মানায়।

রাতে :রাতের অনুষ্ঠানে গাঢ় রং বেছে নিন। স্লিভলেস-হাইনেকের কামিজ ও ব্লাউজ পরুন। কামিজ ও ব্লাউজে ভারী কাজ হলে ভালো মানাবে। শাড়ি পরলে এক রঙের আঁচল ও পাড়ে নকশা আছে এমন শাড়ি বেছে নিন। মানানসই গয়না পরুন। বেশি নকশার পোশাকের সঙ্গে হালকা গয়না পরুন। যদি কামিজের নেক লাইনে ভারী কাজ থাকে, তবে গলায় কিছু না পরে কানে ভারী দুল, আঙুলে একটু বড় আংটি পরতে পারেন। পোশাকের সঙ্গে মানানসই ব্যাগ নিন।

সাজ :দিনের দাওয়াতে হালকা মেকআপ নিন। আর রাতের অনুষ্ঠানে দিনের চেয়ে একটু গাঢ় মেকআপ নিন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ওয়াটার বেজ ফাউন্ডেশন ও শুষ্ক ত্বকে ক্রিম বেজ ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। শুষ্ক ত্বকে ফাউন্ডেশন দেওয়ার আগে মুখে একটু লোশন দিয়ে নিন। এবার কমপ্যাক্ট পাউডার লাগান। চোখ সাজাতে মেরুন, কফি, সবুজ, নীলচে শেড ব্যবহার করুন। চোখে অবশ্যই পানি নিরোধক মাশকারা এবং পেন্সিল আইলাইনার ও পাউডার ব্লাশন ব্যবহার করুন। রাতে দুই গালে খুব হালকা গোলাপি, পিচ অথবা ব্রোঞ্জ রঙের ব্লাশন লাগান। ময়েশ্চারসমৃদ্ধ পিংক, কোরাল, ব্রোঞ্জ রঙের ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করুন। লিপস্টিক যেন আপনার স্কিন টোনের সঙ্গে মানায়। চুল টেনে বাঁধুন।

ছবি সৌজন্যে বিশ্বরঙ