প্রায় ২৯ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ২৫০ শয্যার কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল ১৩ বছর আগে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল বাড়েনি। ফলে ২৫০ শয্যার জনবল দিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এর প্রশাসনিক ও চিকিত্সাসেবা কার্যক্রম। বর্তমানে উপপরিচালক, চিকিত্সক ও কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না এখানকার রোগীরা। কুমেক হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
হাসপাতালটি কুমিল্লার ১৭টি উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার হতদরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্তসহ নানা শ্রেণির মানুষের চিকিত্সাসেবায় ভূমিকা রাখছে। ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ রোগীর চিকিত্সাসেবা দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। রোগীদের অভিযোগ—চিকিত্সা সরঞ্জাম, জনবল ও শয্যা সংকটে তাঁরা এখানে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। হাসপাতালের উপপরিচালক, কনসালটেন্ট সার্জারি, অর্থো-সার্জারি, চক্ষু, ডার্মাটোলজি, মেডিসিন, ইএনটি, অ্যানেসথেসিয়া, রেজিস্ট্রার ইএনটি, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে একটি করে পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া সহকারী রেজিস্ট্রার (সার্জারি) পদে দুটি, অর্থোপেডিক্স, সহকারী রেজিস্ট্রার (শিশু) ও ইএনটি পদে একটি করে, পেডিয়েট্রিক সার্জারি, বার্ন-প্লাস্টিক সার্জারি, নেফ্রলোজি, ক্যাজুয়েলটি, ইউরোলজি পদে দুটি করে, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট, ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার, মেডিক্যাল অফিসার, ডায়ালাইস মেডিক্যাল অফিসার, সহ. সার্জন (এমও) অর্থোপেডিক্স ও ট্রমাটোলজি, ইনডোর গাইনি মেডিক্যাল অফিসার, নিউরো মেডিসিন, মেডিক্যাল অফিসার শিশু ও ক্যাজুয়েলটি পদে একটি করে, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট পদে তিনটি ও রেডিওলজিস্ট (রেডিওলজি ও ইমেজিং) পদে একটিসহ ৩৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটও রয়েছে।
এখানে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৮৫০ জন রোগী ভর্তি হন এবং আউটডোরে চিকিত্সাসেবা নেন আরো ১২০০ রোগী। ফলে চিকিত্সাসেবাসহ প্রশাসনিক কাজকর্মে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায়, শূন্য পদগুলো পূরণসহ পর্যাপ্ত চিকিত্সা সরঞ্জামাদির অভাব দূর করে রোগীদের সেবার মান বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আশু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করি।
মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, হাউজিং এস্টেট, কুমিল্লা