উত্সব মানেই আনন্দ। এমন একটা উত্সব হলে কেমন হয় যেখানে সারাদিন হবে অন্য কোনো পাঠকের সঙ্গে আনন্দের মাধ্যমে নিজেদের পড়া বইগুলো বিনিময়ের সুযোগ। ব্যতিক্রমী এই বই বিনিময় উত্সবের আয়োজন করেছে ‘বইবন্ধু’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন। ‘বইবন্ধু’ ঢাকার রবীন্দ্র সরোবরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী আয়োজন করে বই বিনিময় উত্সবের।
বিশাল পরিসরে ঢাকায় বই আদান-প্রদান করার দৃশ্য এটাই প্রথম। সংগঠনটি বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কাজ করছে। অনুষ্ঠানে বইপ্রেমীদের সামলেছেন একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবক। বই বিনিময় উত্সবে সকলের হাতেই শোভা পেয়েছে হরেকরকম মলাটের বই। বই বিনিময় উত্সবের চমত্কার বিষয়টা ছিল— সকলেই চাচ্ছিলেন প্রিয় লেখকের বই সংগ্রহ করতে। সেহেতু এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটেছেন নিজের পছন্দের বই সংগ্রহের জন্য। অনেকে নিয়ে এসেছিলেন নিজের সংগ্রহে থাকা রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’, হুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ চরিত্র ‘হিমু সমগ্র’ কিংবা জাফর ইকবালের বিজ্ঞানের নানান বই। আবার শিশুদের হাতে দেখা যাচ্ছিল নানান রূপকথা আর ছড়ার বই। বলা যায়, সমরেশ মজুমদার থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, আনিসুল হক থেকে ইমদাদুল হক মিলন বাদ যায়নি কোনো লেখকের বই। উত্সবে আসা লেখকের কাছ থেকে অনেকে অটোগ্রাফ নিয়েছেন। এভাবেই হয়েছে বই বিনিময়। আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানে পাঁচ হাজারের বেশি পাঠকের সমাগম ঘটে এবং ১৫ হাজার বই বিনিময় হয়। পাঠকদের জন্য বই বিনিময় করার সুযোগ তৈরি করছে ‘বইবন্ধু’র সদস্যরা। বই বিনিময় উত্সবে শুধুমাত্র একটি কিংবা তার অধিক বই দিয়ে তারপর ২-৩টি বই নেওয়া সুযোগ ছিল সবার জন্য। একজনের দেওয়া বইটা এদিন তুলে নিয়েছে অন্য কোনো বইপ্রেমী— আর এভাবেই চলে বই বিনিময় উত্সব। নাটক, গল্প, উপন্যাস, ছড়া, কবিতা, ভ্রমণ কাহিনি কিংবা রম্যরচনার পাশাপাশি ছিল পাঠ্যপুস্তকের নানান বিষয়ের বই।
২০১৮ সালে গণপরিবহনে বই পড়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ‘বইবন্ধু’। বর্তমানে বাস, হাসপাতাল, পার্ক, সেলুনসহ নানা স্থানে সংগঠনটির ৫৬টি পাঠাগার রয়েছে।
বইবন্ধু’র সমন্বয়ক মহিউদ্দিন তোহা জানান, ভবিষ্যতে বিভাগীয় শহরে এই আয়োজন ছড়িয়ে দিতে চাই। কারণ তরুণদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ আছে এবং বই হাতের নাগালে মধ্যে পেলে বই পড়ছে। বই বিনিময় উত্সবই তার প্রমাণ।’