রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিত্সায় গর্ভের বাচ্চার মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মা।
পুলিশ জানায়, তারাবো পৌরসভার খাদুন গ্রামের সবুজ মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম উল্লিখিত হাসপাতালের গাইনি ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা. সৈয়দা সোনিয়া রহমানের অধীনে চিকিত্সা নেন। গত ১৮ জানুয়ারি আমেনা বেগমের আলট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গর্ভের বাচ্চা ও আমেনা বেগম সুস্থ আছেন মর্মে চিকিত্সক জানান। পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি আমেনা বেগম আবারও ঐ চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন। তখন তাকে আবারও আলট্রাসনোগ্রামসহ বেশ কিছু পরীক্ষা করানো হয়। এ সময় আমেনা বেগম ও তার গর্ভের বাচ্চা আরো ভালো থাকার জন্য চিকিত্সক কিছু ওষুধ প্রয়োগ করেন। ওষুধ খাওয়ার পর থেকে আমেনা পেট ব্যথায় আক্রান্ত হন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পেটব্যথা নিয়ে ডা. সোনিয়া রহমানের কাছে গেলে আমেনা বেগমকে ভুলতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে ব্যথা উপশমের জন্য চিকিত্সক ঘুমের ইনজেকশন ও ট্যাবলেট প্রয়োগ করলে পেটের ব্যথা আরো বেড়ে যায়। এ সময় ডা. সোনিয়া রহমান গৃহবধূ আমেনা বেগমকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। এক পর্যায়ে তিনি রোগী আমেনা বেগমকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। উপায়ান্তর না দেখে মুমূর্ষু অবস্থায় আমেনা বেগমকে পার্শ্ববর্তী ভুলতা মেমোরি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গাইনি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ডা. লায়লা ভানু আলট্রাসনোগ্রামসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে জানান, আমেনা বেগমের গর্ভের বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে। অতিমাত্রার ইনজেকশন পুশ ও ওষুধ প্রয়োগে বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি সেখানে আমেনা বেগমের গর্ভের মৃত বাচ্চা অপারেশন করে বের করা হয়। আমেনা বেগম বর্তমানে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।
এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার আমেনা বেগম বাদী হয়ে চিকিত্সক সোনিয়া রহমান ও আলট্রাসনোগ্রাফি ডা. মো. শাহ আলমকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ভুলতা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিলন মিয়া বলেন, মায়েদের জরায়ু ও টিউবে বাচ্চা জন্ম নেয়। জরায়ুর বাচ্চা সুস্থভাবে ভূমিষ্ঠ হয়। আর টিউবের বাচ্চা তিন-চার মাস বয়সের মধ্যেই অপারেশন করে বের করতে হয়। তবে ভুলতা জেনারেল হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রামের প্রতিবেদনে বাচ্চাটি জরায়ুতে না টিউবে সেই প্রতিবেদন সঠিক না হওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মহসিনুল কাদির বলেন, এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।