আপন জুয়েলার্সের দিলদারকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

আলোচিত আপন জুয়েলার্সের ১৫ মণ স্বর্ণ, স্বর্ণালঙ্কার ও হীরা আটকের ঘটনায় শুল্ক ফাঁকি ও অর্থ পাচারে অভিযুক্ত হলেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক দিলদার হোসেন। ২০১৭ সালে ঐ সব স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার আটকের পর দিলদারসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযুক্ত করে আলাদা পাঁচটি মামলা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এই মামলার তদন্তও করেন শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা। সাড়ে তিন বছর পর মামলার চার্জশিট দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, গত ২৩, ২৪ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি এ চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন। এর মধ্যে একটি মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিককে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি ও অর্থ পাচারের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়।

এনবিআরের একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, আমদানি করা ঐ স্বর্ণের বিপরীতে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি আপন জুয়েলার্সের মালিক। এর মধ্যে আয়কর আইনে একটি আদেশ (এসআরও) বলে আয়কর দিয়ে তারা ঐসব স্বর্ণ সাদা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কাস্টমস আইনে এটি অবৈধ। কেননা শুল্ক আইন অনুযায়ী আটককৃত স্বর্ণের আমদানির বিষয়ে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি। ফলে একদিকে শুল্ক ফাঁকি, অন্যদিকে অর্থ পাচারে অভিযুক্ত হয়েছেন তারা।

প্রসঙ্গত, আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার হোসেন সেলিমের পুত্র সাফাত আহমেদ ২০১৭ সালে বনানীর একটি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত হন। ঐ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই রাজধানীতে আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি বিক্রয়কেন্দ্রে ২০১৭ সালের ১৪ ও ১৫ মে অভিযান চালান শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা। এতে প্রায় সাড়ে ১৫ মণ স্বর্ণ ও ৪২৭ গ্রাম হীরা জব্দ করা হয়।