প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে খাদ্য নিরাপত্তায়। কোনোভাবেই খাদ্য উত্পাদন ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যেন সংকট তৈরি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। সভা শেষে এনইসি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে বলেন, সভায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যেহেতু মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাই প্রকল্পের কাজে গতি বাড়াতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে কাজ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। করোনার ভ্যাকসিন কেনা হচ্ছে, আরো কেনা হবে এজন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখতে হবে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে খাদ্য নিরাপত্তায়। প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) প্রকল্প এলাকায় থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই ব্যক্তিকে যেন একাধিক প্রকল্পের পিডি হিসেবে দায়িত্ব না দেওয়া হয়, সে নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার এখন গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। প্রায় সব কার্যক্রমই স্বাভাবিকভাবে চলছে। এ পরিস্থিতিতে খাদ্য উত্পাদন যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, প্রধানমন্ত্রী সেদিকে নজর রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এনইসির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তীসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত আরএডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উত্স (জিওবি) হতে অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উত্স হতে অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অর্থাত্ মূল এডিপির তুলনায় সংশোধিত এডিপির বরাদ্দ কমছে ৭ হাজার ৫০১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
আরএডিপিতে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশন নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৬২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর ফলে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) সর্বমোট আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ৯ হাজার ২৭১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা সচিব বলেন, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের মূল এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল ১ হাজার ৫৮৪টি প্রকল্প। সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৭৮৫টি। এছাড়াও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ১০১টি প্রকল্প রয়েছে। সংশোধিত এডিপিতে ৪৮৯টি প্রকল্প বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মূল এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত নেই এমন ২৮টি প্রকল্প সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সেক্টর পুনর্বিন্যাস অনুমোদন : সেক্টরভিত্তিক সিলিং নির্ধারণ সহজীকরণ, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন আরো কার্যকর ও গতিশীল করতে ১৭টি সেক্টর থেকে কমিয়ে ১৫টি সেক্টরে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। সভায় এটি অনুমোদন করা হয়।
মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে : চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে ১০ মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে ১ হাজার ৯৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ৩৩ হাজার ৩২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সেখান থেকে কাটছাঁট করে সংশোধিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ৩৯১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।