আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের নেতা-কর্মীরা ছাত্রাবাসের ১২টি কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং জিনিসপত্র তছনছ করে। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে পাল্টাপাল্টি এই ঘটনা চলাকালে দুই গ্রুপ ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়াতেও লিপ্ত হয়। এতে প্রধান ছাত্রাবাস এলাকাসহ আশেপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় গ্রুপের ৫-৬ জন আহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, দুপুরে ছাত্রদের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। কয়েকটি রুম ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। দুই পক্ষকে নিয়ে অধ্যক্ষের সাথে আলোচনায় বসেছে পুলিশ। অপরদিকে চমেক ছাত্রাবাসের একাধিক সূত্র জানায়, সংঘর্ষের সময় কমপক্ষে ১২টি কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর চকবাজার থানার চট্টেশ্বরী রোডের প্রধান ছাত্রাবাসে সংঘাতে জড়ায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীরা। সংঘাতের জন্য বিবদমান ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা একে অপরকে দায়ী করেছেন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে দীর্ঘদিন ধরে আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী পরিচয় প্রদানকারী ছাত্রলীগের একক আধিপত্য ছিল। কিন্তু গত তিনবছর ধরে তাদের একক আধিপত্যের বিপরীতে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী পরিচয়ে ছাত্রলীগের আরেকটি অংশ ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়েছে। এর আগেও উভয়পক্ষ কয়েকদফা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। গতকাল দুপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রধান ছাত্রাবাসের দ্বিতীয় তলায় লাঠিসোঠা, হকিস্টিকসহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এক গ্রুপ অপর গ্রুপের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশের উপস্থিতিতেও প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং কক্ষে-কক্ষে ভাঙচুর হয়। পরে পুলিশ দুইপক্ষের নেতাকর্মীদেরকে দুই দিকে সরিয়ে দিলে সংঘর্ষ থেমে যায়।
ছাত্রাবাসে অবস্থানকারী সাধারণ ছাত্ররা জানান, প্রধান ছাত্রাবাসের দ্বিতীয় তলার ‘এ’ ব্লকে আধিপত্য বিস্তার করে আছে নওফেলের অনুসারীরা। আর বি-ব্লক নিয়ন্ত্রণে আছে নাছির অনুসারীরা। তবে বেশি কক্ষ দখলে আছে নাছিরের অনুসারীদের। মঙ্গলবার দুপুরে নাছিরের অনুসারীরা দ্বিতীয় তলার কয়েকটি কক্ষ থেকে কয়েকজন ছাত্রকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ নওফেলের অনুসারীদের। এর জের ধরে সংঘর্ষ শুরু হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-দক্ষিণ) পলাশ কান্তি নাথ জানান, এই ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দু’টি গ্রুপ আছে। ছাত্রাবাসে অবস্থান নিয়ে আগেও তারা কয়েকবার মারামারি করেছে। আমরা ঘটনাস্থলে এসে উভয়পক্ষকে মুখোমুখি দেখতে পাই। পরে দুইপক্ষকে দুইদিকে সরিয়ে দিয়েছি। আপাতত পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।