কক্সবাজার শহরে বাড়িতে ঢুকে নারীকে প্রহার করে ৩ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে গ্রেফতার পুলিশের তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় মামলার বাদী রোজিনা খাতুনসহ আরো কয়েক জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, কক্সবাজার শহরের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ার রিয়াজ আহমদের স্ত্রী রোজিনা খাতুনের ব্যাগভর্তি টাকা লুটের চেষ্টা করেন স্থানীয় দুই ব্যক্তির সহযোগিতায় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশের তিন সদস্য। ঘটনাটির প্রাথমিক সত্যতা মেলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলার পাশাপাশি তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তদন্ত টিম গঠন করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে এ কমিটি গতকাল বুধবার দুপুরে রিমান্ডে থাকা তিন পুলিশ সদস্য উপপরিদর্শক (এসআই) নুর-ই খোদা ছিদ্দিকী, কনস্টেবল আমিনুল মমিন ও মামুন মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী রোজিনা খাতুন ও কয়েক জন সাক্ষীর জবানবন্দিও নেন তারা। তারা তিন জনই কক্সবাজার শহর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। উল্লেখ্য, বুধবার ছিল গ্রেফতারকৃতদের দুই দিনের রিমান্ডের প্রথম দিন।
স্থানীয় সূত্রমতে, ভিকটিম রোজিনার পরিবার মাদক কারবারে জড়িত। রোজিনা খাতুন মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগে মামলায় গ্রেফতারও হয়েছেন বেশ কয়েকবার। তাদের অপকর্ম ঢাকতে জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী নামধারী সুবিধাভোগী কিছু ব্যক্তিসহ অপরাধীদের সঙ্গে রোজিনাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সেসব জেনেই সোর্স নামধারী দালালদের পরামর্শে পুলিশের লোভী সদস্যরা রোজিনাদের বাড়ি গিয়ে টাকা আত্মসাত্ করতে চেষ্টা চালিয়েছেন।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, আইনের চোখে সব অপরাধী সমান। গ্রেফতার তিন জন পুলিশের সদস্য হয়ে যে অপরাধ করেছেন, তা বাহিনীর জন্য বিব্রতকর। তবে এটা ব্যক্তি অপরাধ। সেই হিসাবেই তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চাকরির বিধানমতে বিভাগীয় মামলাও রুজু হয়েছে।