তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা সরকারের কাছে নতুন করে প্রণোদনাসহায়তা দাবি করেছেন। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মতিঝিলে পূর্বাণী হোটেলে এ খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর এক সভায় উদ্যোক্তারা এ দাবি জানান। গত বছর করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর এপ্রিলে পোশাকশ্রমিকদের তিন মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সরকার শুরুতে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনাসুবিধা দেয়। পরবর্তী সময়ে এই টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়। গতকাল বিকেএমইএর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন করে প্রণোদনাসুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে এ অর্থের পরিমাণ কত হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি। প্রণোদনার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধে ১৮ মাসের পরিবর্তে তিন বছর সময় চাওয়া হয়। ঐ সভায় বিজিএমইএ এবং বিটিএমএর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিকেএমইএর পক্ষ থেকে রপ্তানির নগদসহায়তা দ্রুত ছাড় করা, স্থানীয় ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে কাঁচামাল ক্রয়ে বন্ড লাইসেন্স নেওয়ার শর্ত বাতিল করা, সুতার অযাচিত মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনে রাসায়নিক কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়াসহ বেশকিছু দাবি তুলে ধরা হয়।
বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। এছাড়া বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, মোহাম্মদ হাতেম, পরিচালক ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি ফারুক হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত বছর প্রণোদনার আওতায় দেওয়া ঋণ পরিশোধে শুরুতে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড (যে সময় পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয় না) দেওয়া হয়। উদ্যোক্তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে, গ্রেস পিরিয়ড আরো ছয় মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়। অর্থাত্ আগামী আগস্ট পর্যন্ত ঐ ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না। এর পরবর্তী ১৮ মাসের মধ্যে ঋণের অর্থ শোধ করতে হবে। যদিও করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য এ সুবিধা দেওয়া হয়নি।