সড়ক দুর্ঘটনা

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা সব সময়েই ছিল, আছে। কিন্তু সম্প্রতি তা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এর কারণ কী সে সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো।

 

চালকের দায়িতজ্ঞানহীন ও বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা, মাদকাসক্তি, নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে গাড়ি চালানো ইত্যাদি কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির তালিকা প্রতিনিয়ত দীর্ঘতর হচ্ছে, সড়ক পরিগণিত হচ্ছে মৃত্যুফাঁদ হিসেবে। সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও গণপরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মালিক ও মালিক সমিতির নেতাদের পরিবহন শ্রমিক কল্যাণের প্রতি বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। অপর দিকে দক্ষ, সচেতন, পেশাদার, দায়িত্ববান ও নিরাপত্তা জ্ঞানসম্পন্ন চালক তৈরির লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ অপরিহার্য।  লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন নীতিমালা সংশোধনপূর্বক এতে নিরাপত্তাসূচক প্রয়েজনীয় শর্ত সংযুক্ত করতে হবে। সর্বোপরি, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ যেন একটি কাগুজে আইনের বাস্তবতায় বিদ্যমান না থাকে, সেজন্য এই আইনের কার্যকর প্রয়োগ অত্যাশ্যক।

ওয়ারেছ আলী খান

সদর, নরসিংদী।

মূলত বিশৃঙ্খল সড়ক ব্যবস্থাপনা, আইন না মানার দুঃখজনক প্রতিযোগিতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা ইত্যাদিই সম্প্রতি অস্বাভাবিক হারে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ার কারণ। এছাড়া, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের আধিক্য, অপেশাদার ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞ চালকদের সংখ্যা বৃদ্ধি, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের গতির অসুস্থ প্রতিযোগিতা, হেলমেট ব্যবহারে অনীহা এবং রাস্তা পারাপারে একশ্রেণির পথচারীর চরম অসচেতনতায় সড়কের লম্ব্বা হচ্ছে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্ববরণকারীর পরিসংখ্যান। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালক ও পথচারীদের সচেতনতার বিকল্প নেই।

আবু ফারুক

সদর, বান্দরবান।

ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, পণ্যবাহী যানবাহনে অতিরিক্ত মাল বোঝাই ও বিপজ্জনকভাবে যাত্রী পরিবহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থা, সর্বোপরি মানুষের অসচেতনতা সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এই কারণগুলো দূর করা মোটেও অসম্ভব নয়। সে জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। না করলে জবাবদিহি ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া যানবাহন চালানো অপরাধ, এ জন্য জেল-জরিমানার বিধান আছে। কিন্তু হাজার হাজার অদক্ষ চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই যানবাহন চালাচ্ছেন, এ জন্য কারো জেল-জরিমানা হয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত নেই বললেই চলে। বিচার ও শাস্তি হয় না বলে বেপরোয়া চালকদের দৌরাত্ম্য কমছেও না।

মো. জিল্লুর রহমান

ঢাকা।

সড়ক দুর্ঘটনার বর্তমান অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চারিত নিরাপদ সড়কের দাবির প্রতি চপেটাঘাতের শামিল। অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনা, চালক ও সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের মাধ্যমে গাড়ি চালানো এবং সড়ক পরিবহন আইনের যথাযথ প্রয়োগের ব্যর্থতার কারনেই সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন অপসারণপূর্বক সড়ক পরিবহন আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনার হার অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

মোহাম্মদ ফয়সাল

পূর্ব মাদারবাড়ি, চট্টগ্রাম

সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ট্রাফিক আইন না মেনে ছোট-বড় সব যানবাহনের অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনা বাড়ার প্রধান কারণ। এছাড়া ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অদক্ষ চালক এবং দীর্ঘ যাত্রায় চালকদের বিরতি বা বিশ্রামের ঘাটতিও মর্মান্তিক সব সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। অন্যদিকে, প্রণীত সড়ক পরিবহন আইনের কঠোর প্রয়োগের অভাবে এই খাতে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি চালক, সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের সর্বোচ্চ সচেতনতা আবশ্যক।

এ এফ এম সালাহউদ্দীন

সদর, বান্দরবান

নানা কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। এর অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, সড়কে সতর্কভাবে চলাচল না করা, অনভিজ্ঞ ড্রাইভার ইত্যাদি। আমাদের প্রত্যাশা সড়ক হোক নিরাপদ, বেঁচে থাকুক হাজারো প্রাণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি হোক সবার অন্তরে।

বজলুল করিম

আজিমপুর, ঢাকা

বাংলাদেশের সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা এখন একটি ভয়ংকর মৃত্যুর ফাঁদ। এর জন্য যে শুধু চালকদের বেপরোয়া ড্রাইভিং এর পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়ক যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা অনেকটা দায়ী । সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স, ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে।

পারভীন সুলতানা বিউটি

রামচন্দ্রপুর, ঝিনাইদহ

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক হতে হবে, নিতে হবে কার্যকর উদ্যোগ। আইনের কঠোর প্রয়োগও জরুরি।

পারভীন আক্তার

ধানমন্ডি, ঢাকা

প্রতিদিন পত্রিকার চোখ রাখলেই দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ। দীর্ঘদিন যাবত্ দুর্ঘটনা রোধে কঠোর আইন করার দাবি উঠে আসছিল। সেই দাবির আলোকে ২০১৯ সালে ১লা নভেম্বর থেকে বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইনের ব্যবহার দৃশ্যমান ছিল। পরবর্তীতে কিছুদিন পর দেখা যায়, আবার পুরোনো দৃশ্য। যত্রতত্র উঠানামা, পার্কিং, প্রতিযোগিতামূলক যানবাহন চলাচল, অনভিজ্ঞ চালক, মোবাইল ব্যবহার, ইত্যাদি বিষযগুলো সড়ক দুর্ঘটনাকে আবার বাড়িয়ে দিয়েছে।

সুতরাং উক্ত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর,ঝিনাইদহ

মহামারির চেয়েও ভয়ংকর সড়ক দুর্ঘটনা—এ কথাটি আজ বলতে হচ্ছে। করোনা বা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে যত মানুষ মারা গেছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় তার চেয়েও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চালকের অভাব, অনুন্নত সড়ক ব্যবস্থা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

মো. ওয়ালীউল্লাহ

মানিকনগর, ঢাকা

অল্প দক্ষ বা অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানোই সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। বেপরোয়া গাড়ি চালাতে গিয়ে যাতে জীবনহানি না হয়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। সম্প্রতিকালে তা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি চালক, সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের সর্বোচ্চ সচেতনতা আবশ্যক।

কবি আল মায়ামী

ফুলবাড়িয়া, সাভার

বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে সড়কে যোগাযোগসহ অবকাঠামোর অনেক উন্নতি হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স, ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা

যানবাহন চলাচলে সড়ক-মহাসড়ক উন্নত করা হলেও সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করা যায়নি। শুধু লাইসেন্স প্রদান করলেই হবে না প্রত্যেক যানবাহন চালকের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক হতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী

অনভিজ্ঞ চালক ও হেলপার, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও অসতর্কতার কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই কমছে না। নিরাপদভাবে চলাচলের জন্য সবার সচেতনতা একান্ত জরুরি।

প্রহরী মনিরুজ্জামান

ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

হঠাত্ সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সড়ক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং মালিক ও শ্রমিক নেতাদের অনুসন্ধান করা উচিত। প্রয়োজনে এসব কর্তৃপক্ষ ও বাসমালিকগণ কি সিদ্ধান্ত নেন সে ব্যাপারে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসায় আসা উচিত।

মাখরাজ খান

সাটুরিয়া , মানিকগঞ্জ

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে বহু লেখালেখিও হয়েছে, কিন্তু দুঃখের বিষয় দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই কমছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে রাস্তায় ট্রাফিক আইন অমান্য করে যান চলাচল, যানবাহন চালকদের অসর্তকতা ও অদক্ষতা, অবৈধভাবে লাইসেন্স প্রদান, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচলে তদারকির অভাব, যত্রতত্র পার্কিং, সড়ক এবং মহাসড়কে ডিভাইডার নির্মাণে প্রকৌশলগত ভুল-ত্রুটি, ইত্যাদি ।

আলহাজ হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)

রাজশাহী-৬২০২

আইন অমান্য করে গাড়ি চালানো, অদক্ষ চালকদের লাইসেন্স দেওয়া সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

সালেহা আফরিন বেবি

শিবগঞ্জ, সিলেট

সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের দেশে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনেকে তার জন্য অবকাঠামোগত সমস্যার কথা বলে পাশ কাটিয়ে যেতে চান। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজন ড্রাইভার, হেলপারসহ সংশ্লিষ্টদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সার্বিক জ্ঞান অর্জন।

ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

সড়ক দুর্ঘটনায় চালকের অসচেতনতা সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অপরিকল্পিত স্পিডব্রেকার ও রাস্তার বাঁক, সঠিক লেন ব্যবহারে অনীহা, ওভারটেকিং, লং জার্নিতে চালকের অবিশ্রাম, মাদক গ্রহণ, ওভারস্পিড, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে যাত্রী ওঠানো-নামানো, মেগাসিটিতে অটোরিকশা সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় কারণ।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ

মিরপুর, ঢাকা

অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানোই সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। বেপরোয়া গাড়ি চালাতে গিয়ে যেন জীবনহানি না হয়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। হুটহাট গাড়ির গতি বাড়ানো বা কমানো প্রায়শই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ট্রাফিক আইন জানা ও দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন সচেতন ও সুশৃঙ্খল চালকই পারবে দুর্ঘটনা হ্রাস করতে।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

মেরাদিয়া, ঢাকা।

আমাদের দেশে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।  যেসব কারণে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনাগুলো প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে, তা হলো—ড্রাইভারদের গাড়ি দ্রুত চালানোর মানসিকতা ,ওভারট্রেকিং করার প্রতিযোগিতা , রাস্তার লেন মেনটেইন না করা , ট্রাফিক আইন মেনে না চলার মানসিকতা পোষণ করা, অনভিজ্ঞ অবৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী ড্রাইভার এবং হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, পথচারী এবং সাধারণ মানুষের জেব্রা ক্রসিং এবং ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি সবার সচেতনতা প্রয়োজন।

কামরুজ্জামান

শ্রীপুুর, গাজীপুর।