আগুনের শিকার ভাওয়ালের জাতীয় উদ্যান

প্রতি বছর শীতের শেষে ভাওয়ালের জাতীয় উদ্যানে কে বা কারা যেন আগুন লাগিয়ে দেয়! আর পুরো বন পুড়ে উজাড় হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভাওয়ালবনের জীববৈচিত্র্য। শীতের শেষে শাল বৃক্ষের পাতাগুলো মাটিতে ঝরে পড়ে পুরো বনজুড়ে বিছিয়ে থাকে। ফলে কোনো একটি জায়গায় আগুন লাগলে বনের একটি বিশাল অংশ বা কখনো কখনো পুরো বন আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে পশুপাখি, লতাগুল্ম, কীটপতঙ্গ মারা পড়ে এবং স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিভিন্নভাবে দখল আর স্থাপনার কারণে এমনিতেই ভাওয়ালের জাতীয় উদ্যান ছোট হয়ে আসছে। আগের রূপবৈচিত্র্য ও জৌলুস আর নেই। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বনের সংখ্যা আমাদের দেশে এমনিতেই কম। তারপরও অবশিষ্ট যেটুকু বন রয়েছে তা যেন প্রকৃতির এক আশীর্বাদ। ভাওয়ালের জাতীয় উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন রিসোর্ট, শিল্পকারখানা, আবাসিক স্থাপনা, রেস্টুুরেন্ট গড়ে ওঠায় এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এই বনভূমির ভেতর দিয়ে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীগুলো সবসময়ই থাকে হুমকির সম্মুখীন। এর সঙ্গে যোগ হয় আগুনের ধ্বংসলীলা।  দেখার কেউ নেই! অনেকের ধারণা এই আগুন লাগানো হয় পরিকল্পিতভাবেই। উদ্দেশ্য হচ্ছে—শালবনে আগুন দিয়ে গাছ পুড়িয়ে ফেলা, ফাঁকা জায়গা দখল করা, অস্থায়ী ঘরবাড়ি তৈরি করা, অস্থায়ী ঘরবাড়ির স্থলে স্থায়ী বাড়িঘর নির্মাণ করা। পরিশেষে, আমাদের বেঁচে থাকার প্রাণশক্তি অক্সিজেনের ভাণ্ডার এবং জীববৈচিত্র্যের আধার এই ভাওয়ালের জাতীয় উদ্যান রক্ষার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

কামরুজ্জামান

সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ,

মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, ভাওয়ালগড়, গাজীপুর