ভারতের কর্ণাটক রাজ্য। সেই রাজ্যে ছিল চার ব্রাহ্মণ। তাঁরা জ্ঞানের খোঁজে সব জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। সবকিছুতেই তাদের ভীষণ কৌতূহল। ব্রাহ্মণরা নানা কৌশল আর গোপন বিদ্যা শেখে। তাই নিয়ে তাদের মাঝে সবসময় তর্ক-বিতর্ক চলে।
একদিন চার ব্রাহ্মণ এক গহিন বনে হাজির হয়। এক ব্রাহ্মণ বনের এক কোণে আচমকা একটি হাড় দেখতে পায়। সত্যিই বাঘের পায়ের এক মস্ত হাড়! অমনি ব্রাহ্মণ বন্ধুদের বলে, ‘এই হাড় থেকেই প্রাণীটার পুরো কঙ্কাল বানাতে পারি।’ সেইমতো তৈরি হয় বাঘের কঙ্কাল।
দ্বিতীয় ব্রাহ্মণ বলে, ‘পুরো কঙ্কালটাতে রক্ত, মাংস ও চামড়া জুড়ে দিতে পারি।’ তখনই দেখা যায় ডোরাকাটা এক বাঘ।
তৃতীয় ব্রাহ্মণ অহংকার করে বলে, ‘আমার ক্ষমতা সম্পর্কে তোমরা কতটা জানো? এখনই বাঘটাকে প্রাণ দিতে পারি।’
সেই সুযোগে চতুর্থ ব্রাহ্মণ তৃতীয় ব্রাহ্মণকে বলে, ‘তোমার কথায় ভরসা কোথায়?’
তৃতীয় ব্রাহ্মণের উত্তর, ‘নিজের জীবন দেবার মতো জাদু আমার জানা নেই। তবে বাঘটার মাঝে প্রাণ দেয়া ভারি সহজ।’
অমনি চতুর্থ ব্রাহ্মণ বলে, ‘আমি গাছে না ওঠা অবধি একটু দাঁড়াও।’ বলতে-বলতেই সে একটি গাছের মগডালে চড়ে বসে।
তৃতীয় ব্রাহ্মণের মন্ত্র আর জাদুবলে বাঘটা প্রাণ ফিরে পায়। নতুন জীবন পেয়েই ক্ষুধার্ত বাঘ চারপাশে খাবার খোঁজে। আর পালাতে না-পারা ভীত তিন ব্রাহ্মণকে কপাত্ করে খেয়ে ফেলে। বনের মাঝে পড়ে থাকে তিন ব্রাহ্মণের হাড়।
গাছের মগডালে বসা চতুর্থ ব্রাহ্মণ বাঘের এমন ভোজনে ভীষণ ভয় পায়। বাঘ তিন ব্রাহ্মণের হাড়-মাংস চিবিয়ে বনের মাঝে হাঁটতে থাকে। নিরুপায় চতুর্থ ব্রাহ্মণ গাছ থেকে নামে। আর বন্ধুদের মৃতদেহ সত্কারের আয়োজন করে।
রূপান্তর : কুতুব আজাদ