সীতাকুণ্ডে শিমের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি

n মীর মো. দিদারুল হোসেন টুটুল

 

সীতাকুণ্ডে এবার শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। তাদের সংসারে সচ্ছলতায় মহা খুশি সবাই। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, অত্র অঞ্চলের দক্ষিণে শিল্পকারখানার কারণে বিশাল কৃষি ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেলেও উত্তরে কৃষি ফসলি জমি থাকার ফলে শিম চাষে এবার কৃষকরা অনেক লাভবান হয়। প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়।

কৃষকরা এই শিম উত্পন্ন করে কেউ তাদের পুরো জমিতে, কেউ জমির আইলে, খালের পাড়ে, বেড়িবাঁধের দুই পাশে, কিংবা ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশসহ সব খানেই চাষিরা শিমের চাষ করে। তবে বেশির ভাগ চাষি জমির মধ্যে শীতকালীন অন্যান্য সবজির চাষ করে। তাছাড়া জমির চারপাশের আইলেও শিম চাষ করে।

বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের উত্তর ফেদাইনগর গ্রামের শিম চাষি জসিম উদ্দিন বলেন, তিনি বংশ পরম্পরায় কাত্তিকোটা, ছুরি, পুঁটি ও বাটাসহ ছয় ধরনের শিম চাষ করে আসছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ২০ টন করে সর্বমোট ৬০ হাজার টন শিম উত্পাদন হয়। প্রতি কেজি শিম ২৫-৩০ টাকা মূল্যে হিসাব করলে এবার ৬০ হাজার টন শিম প্রায় ১৫০ কোটি টাকার শিম বিক্রি করে কৃষকরা। এই শিমের বিচিও ইপসা নামক একটি এনজিও বিদেশে রপ্তানি করে রেমিট্যান্স আয় করে। সরকার যদি সীতাকুণ্ডের উত্পাদিত শিম ও শিমের বিচি বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রান্তিক চাষি বা ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে তাহলে দেশের এই সম্ভাবনা খাত থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়সহ এ খাতে নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্র্রসারণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র নাথ বলেন, শীতকালে এ উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে শাক সবজির চাষ হয়। এর মধ্যে শিমের চাষ হয় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে।