বিএনপির মিথ্যাচারে আমরা হতাশ হয়েছি: হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘যারা বিএনপির রাজনীতি করেন তারা উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে এসে দাঁড়ান। যদি দেশের জন্য রাজনীতি করতে হয় তাহলে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ান নয়তো চুপচাপ থাকুন।’

শুক্রবার বিকেলে শহরের ডিআইটিতে মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হানিফ আরও বলেন, ‘আগামী উপজেলা নির্বাচন খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি বলছে, উনারা নাকি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। নির্বাচনের অংশ না নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনে অংশ না নিলে এটা হবে চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে করে আপনারা রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়বেন। আর জনগণের আস্থা আপনাদের ওপর থেকে উঠে যাবে।’

বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘একটি সময় মনে করতাম বিএনপি দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সৃজনশীল রাজনীতি করতে চান বা তার ইচ্ছা আছে। কিন্তু সম্প্রতিকালে তার লাগাতার মিথ্যাচারে তার প্রতি আমরা হতাশ হয়েছি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. জাফর উল্লাহ একটা তথ্য দিয়েছেন, দুই বছর তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে বিরত রাখতে। তিনি দুই বছর বাইরে থাকার পর বিএনপি একটা ভালো অবস্থানে আসার পর উনাকে দেশে আনা হবে। কি অকাট্য পরামর্শ। তারেক রহমানকে কেন দেশের বাইরে রাখতে চান? কারণ তারেক রহমান সন্ত্রাসী, তারেক রহমান দুর্নীতিবাজ। তিনি বহু মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাই এই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জিয়া পরিবার বাংলাদেশের জন্য একটি অভিশপ্ত পরিবার। যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের প্রতিষ্ঠা করেছিলো তারা। জিয়া ছিলেন পাকিস্তানী এজেন্ট। জিয়া ছিলেন এ দেশের স্বাধীনতা বিরোধী। তারা এ দেশটাকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। এই পরিবারের নেতৃত্ব এ দেশের মানুষ আর চায় না ‘

এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, ‘যদি সত্যিই আশরাফ ভাইকে ভালোবাসেন তাহলে গিভ এন্ড টেক রাজনীতি বাদ দেন। রাতের বেলায় বিএনপির সঙ্গে আলাপ আর দিনের বেলায় জামাতের সঙ্গে ষড়যন্ত্র, এই রাজনীতি বাদ দেন। এই রাজনীতি বাদ দিয়ে যারা সাচ্চা আওয়ামী লীগে আছেন তারাই সত্যিকারে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য সারোয়ার জাহান বাদশা, জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, মহনগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব, জিএম আরমান, শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, অ্যাডভোকেট মাহমুদা মালা, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। 

আরও পড়ুনঃ বাঘাইছড়ির সাজেকে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটর সাইকেল আরোহী নিহত

স্মরণ সভার প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুব উল হানিফকে উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান আরো বলেন, ‘আমি ওপেন ডিক্লিয়ার দিয়েছি, আগামীতে নির্বাচন করবো না। যদি দেশের পরিস্থিতি এরকম স্বাভাবিক থাকে এরকম সুন্দর থাকে, যদি কোন সাপ-শকুন যদি আমার নেত্রীর ওপর আবার হামলা করার চেষ্টা না করে তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য আমি আমার জায়গা থেকে এই মুহূর্তে সরে যেতে রাজি আছি। রাজনীতি করতে এসেছি ভণ্ডামী করার জন্য না। আপনি স্বাক্ষী, আপনার সামনে নেত্রী আমাকে মন্ত্রীত্ব দিতে চেয়েছিলেন। আমি সেদিন মন্ত্রী হইনি।’

ইত্তেফাক/নূহু