ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন হবে কি না জানা যাবে কিছু দিনের মধ্যে :আইনমন্ত্রী

আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন হবে কি না, তা কিছু দিনের মধ্যেই দেখতে পাবেন। আইনটি সংশোধনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন। গতকাল শুক্রবার সকালে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে এক পথসভায় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অপরদিকে, কসবায় মন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে বর্তমান মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এম এ আাাজিজ সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও ভাঙচুর হয়েছে।

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, আখাউড়ায় মন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে গেছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের টাকায় শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। কারো কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়নি। বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত হয়েছে। আমরা ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে একটি উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত করে তুলব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইন সচিব গোলাম সারোয়ার, জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল কাসেম ভুঁইয়া প্রমুখ। এর আগে তিনি সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে আখাউড়ায় এসে পৌঁছেন তিনি।

কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, কসবায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপির এক বছর পর আগমন উপলক্ষ্যে দুই মেয়র পদপ্রত্যাশী বর্তমান মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এম এ আজিজ সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও ভাঙচুর সংঘটিত হলে মন্ত্রীর স্মার্ট কার্ড বিতরণ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি উন্মোচন অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। পরে ক্ষুব্ধ হয়ে মন্ত্রী তার গ্রামের বাড়ি পানিয়ারূপ গ্রামে চলে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মন্ত্রী আসার পূর্বেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই মেয়র পদপ্রত্যাশী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে পাঁচ জন আহত হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ থেমে গেলে মন্ত্রী এসে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় তিনি উপজেলা নির্বাচন অফিসের স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনী শেষে বক্তৃতা দেওয়ার সময় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও ভাঙচুর শুরু হয়। তখন মন্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় উভয়পক্ষের হামলাকারীরা পৌর সদরে প্রায় ৪০টি মোটরসাইকেল ও শতাধিক চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। তারা পৌর সুপার মার্কেট প্রাঙ্গণে ফুটপাতের তিনটি দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করে। হামলাকারীরা অন্য পক্ষের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় কসবা শহরের দুটি বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। হামলাকারীরা ব্যাংক এশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় কয়েক জন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক এম জি হাক্কানীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর করে।