হংকংয়ের নির্বাচনি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছে চীন। এর মাধ্যমে হংকংয়ে তারাই নির্বাচন করতে পারবেন এবং শাসনকাজে অংশ নিতে পারবেন, যারা দেশপ্রেমিক। এদিকে চীনে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস শুরু হয়েছে। খবর আলজাজিরা, রয়টার্স ও ডয়চেভেলের
ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের মুখপাত্র ঝ্যাং ইয়েসুই জানিয়েছেন, হংকংয়ের ব্যবস্থায় এবং নির্বাচনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনার চিন্তা করা হচ্ছে। দেশপ্রেমিকরাই হংকং শাসন করবেন। হংকংয়ের দুটি টিভি চ্যানেলও জানিয়েছে, নির্বাচনি কমিটির সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ এবং শহরের আইনসভা ৭০ থেকে ৯০টি আসনে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এই কমিটিই হংকংয়ের নেতা নির্বাচিত করে। ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলরদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হবে। তারাই মূলত প্রধান নির্বাহীকে নির্বাচিত করেন। এখন প্রধান নির্বাহীর অধীনেই একটি কমিটি থাকবে।
২০২০ সালে জিডিপির কোনো লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট করেনি চীন। করোনার কারণে অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি হয়েছিল চীনসহ গোটা পৃথিবীতেই। ফলে চীন জানিয়েছিল, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করাই তাদের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য। চীন একমাত্র দেশ, গত বছর যারা অর্থনীতিতে বৃদ্ধি দেখাতে পেরেছে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে অর্থনীতির শুধু পতন হয়নি, জিডিপি শূন্যের নিচে নেমে গেছে। সেই অবস্থায় চীন জানিয়েছিল দুই দশমিক তিন শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি হয়েছিল তাদের। শুক্রবার চীন জানিয়েছে, তাদের অর্থনীতি এখন স্থিতিশীল। ফলে ২০২১ সালের জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে অন্তত ছয় শতাংশ। শুক্রবারই চীনে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস শুরু হয়েছে। দেশের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এই সম্মেলনেই নেওয়া হবে। সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত এই সম্মেলন চলার কথা। সম্মেলন শুরুর আগে জানা গেছে, কারখানাগুলোকে আরো পরিবেশবান্ধব কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে এই সম্মেলনে আলোচনা হবে। ২০২১-এর অন্যতম টার্গেট হবে পরিবেশবান্ধব কারখানা। তবে সম্মেলন শুরু হওয়ার পরেই চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং প্রথমে অর্থনীতি নিয়ে বলতে শুরু করেন।
তাইওয়ান, হংকং নিয়ে উদ্বিগ্ন চীন। দুই অঞ্চলেই ব্যাপক আন্দোলন চলছে। এদিন চীনের প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়েও দীর্ঘ বক্তৃতা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কমিউনিস্ট সরকার ‘এক চীন’ নীতিতে বিশ্বাস করে। তাইওয়ান এবং সংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চল যাতে নিরাপদে থাকে, চীন তা নিশ্চিত করবে। তাইওয়ানের উন্নতির জন্য একাধিক প্রকল্পের কথাও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু কোনোভাবেই দেশদ্রোহ বরদাস্ত করা হবে না। চীন প্রশাসনের বক্তব্য, আন্দোলন দমন করা হবে। একই সঙ্গে তাইওয়ানের উন্নতিতে কাজ করা হবে।