এফবিসিসিআই নির্বাচন :সরব পরিচালক পদপ্রার্থীরা

সভাপতি পদে সাবেকদের পছন্দ জসিম উদ্দিন

জামাল উদ্দীন

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন এফবিসিসিআইয়ের পরবর্তী সভাপতি হচ্ছেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। ২০২১-২০২৩ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে ইতিমধ্যে তপশিল ঘোষণা করা হয়েছে। তপশিল অনুযায়ী পরিচালক পদের ভোটগ্রহণ আগামী ৫ মে অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল শনিবার ছিল এফবিসিসিআইয়ের সদস্য সংগঠনগুলোর চাঁদা পরিশোধের শেষ দিন। সাধারণ পরিষদের সদস্য হিসেবে নাম পাঠানোর সর্বশেষ তারিখ ৮ মার্চ। আগামী ১৩ মার্চ প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। অভিযোগ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী সাপেক্ষে ২৪ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী পরিচালক পদের প্রার্থীদের (নির্বাচিত ও মনোনীত) মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন ৩১ মার্চ। প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে ৮ এপ্রিল। ১১ এপ্রিল প্রার্থিতা বাতিলের শেষ দিন। ১৫ এপ্রিল চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ। ২১ এপ্রিল প্রত্যাহার ও চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৫ মে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পরিচালক পদে সাধারণ সদস্যদের ভোটগ্রহণ শেষে ফল প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও ছয়জন সহসভাপতি পদে নির্বাচন হবে ৭ মে বিকাল ৩টায়। এরপর ৯ মে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তবে সভাপতি পদে এবার সংগঠনের সাবেক সভাপতিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মো. জসিম উদ্দিনকে সভাপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে একক প্রার্থী হিসেবে সম্মিলিত সমর্থন ঘোষণা করায় জসিম উদ্দিনের সভাপতি হওয়া প্রায় নিশ্চিত।

এদিকে নির্বাচনে সাধারণ সদস্যরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে পরিচালক নির্বাচনে আগ্রহী। সরাসরি নির্বাচন না হওয়ায় সাধারণ সদস্যদের গুরুত্ব কমে গেছে বলে মনে করছেন কোনো কোনো ব্যবসায়ী নেতা। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক এক সভাপতি বলেন, পরিচালক পদে দেড় শতাধিক প্রার্থী রয়েছেন। এদের প্রচারে ভোটের মাঠ এখন সরগরম। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ফেডারেশনের ইমেজ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করে এমন যে কোনো তত্পরতা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে।

এদিকে সভাপতি পদে সাবেক সভাপতিদের পছন্দ মো. জসিম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে এফবিসিসিআইয়ের দায়িত্ব অনেক বেশি। সাধারণ সদস্যদের সমস্যার সমাধান করা থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বড় ভূমিকা রয়েছে এফবিসিসিআইয়ের। সংগঠনকে আরো বেশি গবেষণামুখী করা, খাতভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়ক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা তার।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ‘সবার অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন দেখতে চাই। ভোট সুষ্ঠু এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক এটাই প্রত্যাশা করছি। আশা করছি, এই নির্বাচনে এফবিসিসিআই ও ব্যবসায়ীদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। করোনা পরিস্থিতি উত্তোরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াবে বেসরকারি খাত।’