রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিণত হয়েছে ইটভাটার স্বর্গরাজ্যে। রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় বসন্তপুর থেকে সাহাব্দিপুর পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে দেখা মিলবে ইটভাটাগুলো। চারদিকে ধান, সরিষা, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের জমি আর তারই মাঝে মাঝে ভাটাগুলো। মাত্র ছয়-সাত কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১৫/১৬টি ইটভাটা। যে জমিগুলোতে ভাটা রয়েছে—তার সবই ফসলি জমি এবং সেগুলোতে একাধিক ফসল উত্পাদিত হয়। এছাড়া ভাটাগুলোর আশেপাশে রয়েছে আবাসস্থল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কারখানা। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১০ (সংশোধিত)-এর ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, বছরে একাধিক ফসল উত্পাদিত হয় এমন কৃষিজমিতে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এছাড়া এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেখানে স্থাপন করা যাবে না ইটভাটা। তবু এই আইন অমান্য করে বেড়েই চলেছে ভাটা স্থাপন। ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, ফসলের রোগ-বালাই বাড়ছে এবং হ্রাস পাচ্ছে ফসলের উত্পাদন। আমসহ অন্যান্য ফলগাছের মুকুল নষ্ট হচ্ছে এবং ফলে পচন দেখা দিচ্ছে। এছাড়াও ভাটাগুলোতে বাড়ছে শিশুশ্রম, জ্বালানির জন্য কর্তন হচ্ছে গাছপালা এবং ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে সড়কগুলো খুব দ্রুতই নষ্ট হচ্ছে। অধিকাংশ ভাটাগুলোর মালিক এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় মুখ খোলার কেউ সাহস করে না। যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—ফসল উত্পাদন এবং পরিবেশের কথা ভেবে হলেও ইটভাটাগুলো বন্ধে ব্যবস্থা নিন।
মো. শফিউল্লাহ
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া