রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তদন্ত কমিটি। নির্মাণকাজে দুর্নীতির প্রমাণের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার তার বিরুদ্ধে এ সুপারিশ করা হয়।
ইউজিসির তদন্ত কমিটির সদস্য ফেরদৌস জামান বলেন, তার বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছি। তিনি একটি প্রকল্পের মোট তিনটি স্থাপনার নকশা নিজের ইচ্ছে মতো পরিবর্তন করে খরচ ১৩০ শতাংশ বাড়িয়েছেন। আগের পরামর্শক বাদ দিয়ে নিজের ভাগনেকে প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছেন। এখন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটি সূত্র জানায়, এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় চার বছর আগে। এর মধ্যে আছে ১০ তলাবিশিষ্ট শেখ হাসিনা ছাত্রী হল, ড. ওয়াজেদ মিয়া গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ১০ তলা ভবন, ‘স্বাধীনতা স্মারক’ নামে একটি শহিদ মিনার ও দুইটি গবেষণাগার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেছিলেন। ২০১৮ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারপর উপাচার্য কলিমউল্লাহ একনেকের কোনো অনুমোদন ছাড়াই নকশা পরিবর্তন ও পরামর্শক বাদ দিয়ে তার ভাগনেকে পরামর্শক নিয়োগ করে কাজ চালান।
সরেজমিনে কাজের অবস্থা দেখে এই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তদন্ত কমিটির সদস্য ফেরদৌস জামান। ফেরদৌস জামান জানান, মূল প্রকল্প ছিল ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার। তিনি এটির ব্যয় বাড়িয়ে করেছেন ২১৩ কোটি টাকা। তবে প্রধান পরিবর্তন হলো টয়লেটের সংখ্যা বাড়িয়ে দুই গুণ করা। এতে নির্মাণের পর ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তদন্তে শিক্ষামন্ত্রীর প্রভাব ছিল না :ইউজিসি
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে ইউজিসি যে তদন্ত করেছে সেখানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কোনো প্রভাব ছিল না। কোনো পর্যায়ে শিক্ষমন্ত্রী বা অন্য কারো প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগও নেই। কলিমুল্লাহর সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এ কথা জানিয়েছে ইউজিসি। গতকাল শনিবার এ প্রতিবাদ লিপি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
প্রতিবাদে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুবিভাগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ইউজিসিকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অনিয়মের অভিযোগটি পরিকল্পনা সংক্রান্ত হওয়ায় ইউজিসির তদন্ত করে।
তদন্ত কমিটি পেশাদার মনোভাব নিয়ে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সরেজমিনে পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। কোনো পর্যায়ে শিক্ষমন্ত্রী বা অন্য কারো প্রভাব বিস্তার করার কোনো ধরনের সুযোগ নেই। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।