শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ লাখ লাখ সনদধারী এনটিআরসিএ-র (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) গণবিজ্ঞপ্তির আশায় দিন পার করছেন। প্রায় ৬০ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা ছিল ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে। কিন্তু এখনো গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারেননি এনটিআরসিএ। তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়ায় গত তিন বছরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে। এরই মধ্যে শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ বয়স ৩৫ পার হয়েছে। যদিও তারাও নিয়োগ পাওয়ার অধিকার রাখে। এনটিআরসিএ-র বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন পদক্ষেপে হতাশা দীর্ঘতর হচ্ছে। সম্প্রতি হাইকোর্ট থেকে ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের (শুধু রিটকারীদের) এককভাবে নিয়োগের নির্দেশনা এসেছে। শোনা যাচ্ছে, তাদের পদ ফাঁকা রেখে গণবিজ্ঞপ্তির প্রস্তুতি চলছে। নিয়ম সবার জন্য সমান হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় শুধু রিটকারীরা নয়, ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধনের নন-রিটকারীরাও নিয়োগ পাবেন। ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীরা এককভাবে নিয়োগ পেলে ১৪ ও ১৫ তম নিবন্ধনধারীরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে এককভাবে নিয়োগ পাওয়ার অধিকার রাখে। একই দেশে বেকার তরুণ নিবন্ধনধারীদের জন্য দুই নিয়ম কাম্য নয়। নিয়োগের দীর্ঘসূত্রিতায় অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ লাখ লাখ নিবন্ধনধারীর। আবার সময়মতো শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে বারবার কালক্ষেপণ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সবার জন্য সমান সুযোগ রেখে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অতিসত্ত্বর গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হোক।
সাধন সরকার, নারিন্দা, সূত্রাপুর, ঢাকা