শামীম হামিদ, চট্টগ্রাম অফিস
১৯৯৯ সালে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় দেশের বৃহত্তম বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল কোরিয়ান ইপিজেডের (কেইপিজেড) যাত্রা শুরু হয়, যা প্রতিষ্ঠা করেন দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়ংওয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও কিহাক সাং। নানা বাধা অতিক্রম করে ইতিমধ্যে এই শিল্পাঞ্চলে ২৮টি কারখানায় উত্পাদন শুরু হয়েছে। চালু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আরো ১০টি কারখানা। সম্প্রতি ১০০ একর জমির ওপরে একটি হাইটেক পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে চালু হওয়া কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে ২৫ হাজার নারী-পুরুষের। সব মিলিয়ে এখানে ১ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চালু কারখানার মধ্যে ইয়ংওয়ান গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই বেশি। এছাড়া আমেরিকা, জার্মানিসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ রয়েছে বিনিয়োগকারীর তালিকায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, কেইপিজেডে রয়েছে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নিজস্ব সৌরবিদ্যুত্ প্রকল্প এবং নিজস্ব জেটি। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধার কারণে কেইপিজেডে বিনিয়োগে আগ্রহ ক্রমশই বাড়ছে। তবে ২১ বছর আগে যে লক্ষ্য নিয়ে কেইপিজেডের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই লক্ষ্যে এখনো পৌঁছাতে পারেননি। এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বরাদ্দ করা ২ হাজার ৪৯২ একর জমির নামজারি না হওয়া এবং বাণিজ্যিক জেটি নির্মাণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে।
কোরিয়ান ইপিজেডের প্রতিষ্ঠাতা কিহাক সাং মনে করেন, বড় কাজ করতে গেলে নানা রকম বাধা-বিপত্তি আসবে। সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে লক্ষ্যপূরণের পথে এগিয়ে যেতে হবে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কেইপিজেড কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কেইপিজেড নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা শোনান কিহাক সাং। এ সময় তিনি কেইপিজেড প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে এই শিল্পাঞ্চলকে আরো উত্পাদনমুখী ও গতিশীল করতে তার সহযোগিতা কামনা করেন।
কিহাক সাং বলেন, একটা বড় সমস্যা ছিল পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়া। এটা পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। পরিবেশ ছাড়পত্র পেতে আমাদের ৯ বছর লেগেছিল। এ রকম আরো সমস্যা ছিল। কিন্তু আমরা থেমে থাকিনি।
এই ইপিজেডকে কেন্দ্র করে তার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে কিহাক সাং বলেন, আমরা আসলে এখানে ১ লক্ষ কর্মীর কর্মসংস্থানের কথা ভেবেছিলাম। একটি স্পনসর কোম্পানি হিসেবে আমরা এখানকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছি। এরপর আমাদের প্রত্যাশা ছিল ইয়ংওয়ানসহ অন্যান্য বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলো এখানে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। প্রাথমিকভাবে আমরা প্রতি বছর এখান থেকে ১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম, যা পরে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। কেইপিজেডকে সরকার ২ হাজার ৪৯২ একর জমি দিলেও এখনো জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও জমির নামজারি হয়নি। তবে নামজারি সমস্যা অচিরে কেটে যাবে আশা করে তিনি বলেন, সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে আমাদের এই উদ্যোগে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।