নাটক বাণিজ্যিক মাধ্যমে পরিণত হয়েছে

এদেশে নির্মাতার নাম দেখে নাটক দেখতে বসার অভ্যেস চলে গেছে অনেক আগেই। নব্বই দশক থেকে যে ক’জন নির্মাতা নিজেদের কাজের সফল শিরোনাম হতে পেরেছেন তাদের ভেতরে সামনের সারির হলেন সালাউদ্দিন লাভলু। বাংলা নাটকের প্রাসঙ্গিক ধারাবদল করেছেন তিনি। বর্তমানে চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকলেও নিয়মিত নাটক নির্মাণ ও দ্বিতীয় মেয়াদে ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ইন্ডাস্ট্রির সার্বিক অবস্থা নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল 

নতুন কাজ সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি—

বর্তমানে ‘মায়া’ শিরোনামের নতুন একটি ধারাবাহিকের প্রি-প্রোডাকশনের কাজ করছি। এছাড়া ‘অনন্যা প্রতিভা’ রিয়েলিটি শোয়ের বিচারক হিসেবে সামনের মাস খুব ব্যস্ত থাকবো। এরপর ঈদের কাজ শুরু করবো। পাশাপাশি নিয়মিত কাজগুলো তো রয়েছেই।

শুরুর দিকে ক্যামেরায় তেমন ফর্মেশন ছিল না। তারপরও আপনি তারকা বনে যান। কীভাবে এই সফলতার পথে হাঁটলেন?

আসলে আমি যখনই কোনো কাজ করেছি বা করি সেটা খুব মনোযোগ ও সততার সঙ্গে সম্পন্ন করার চেষ্টা করি। এটাই হচ্ছে মূল বিষয়। আমি মনে করি যে যে কাজই করুক সেটাতে যদি পরিশ্রম, সততা ও আন্তরিকতা থাকে তাহলে সফলতা আসবেই।

মোল্লাবাড়ির বউসহ বেশকিছু ছবিতে ঈর্ষনীয় সাফল্য পান। তারপরও আপনার প্রতি অভিযোগ থাকে কেন আর ছবিতে আগ্রহ দেখালেন না?

আমি ছবি করতে চাই ছবির মতো করে। ছবি আসলে নাটকের মতো করে করলে তো আর সেটা ছবি হয় না। এছাড়া আমি বিশ্বাস করি যে, চলচ্চিত্র এটা বড়মাপের মাধ্যম। এখানে গল্প, নির্মাণ, শিল্পী থেকে বাজেট পুরোপুরি মিললেই কিন্তু একটা ভালো ছবি হয় এবং দশর্কের কাছে পৌঁছায়। যদি এই বিষয়গুলোতে আমি ছাড় দেই তাহলে সেটা ছবি হয় না, দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যও হয় না। তবে আমার মনের মতো করে সব পেলে একজন নির্মাতা হিসেবে ছবি নির্মাণ করবো, না পেলে নির্মাণ করবো না।

ডিরেক্টর গিল্ডের খুব একটা কার্যকারীতা চোখে পড়ে না। আপনি সংগঠনটির আবারো সভাপতি নির্বাচিত হলেন। এতে আশাবাদের জায়গা কোথায়?

আমার মনে হয় না ডিরেক্টর গিল্ড কাজে লাগে না। অন্যান্য দেশের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন তারা সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী বলেই অনেকদূর এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশের সংগঠনগুলো এতটা শক্তিশালী না হওয়ার কারণ হলো অনেকেই সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না। আমার আগের মেয়াদেও কিন্তু টিভি নাটকের অনেক প্রয়োজনীয় কাজ করেছি। সেই ধারাবাহিকতা এবারো থাকবে। আমাদের এই সংগঠনটি তথ্য মন্ত্রণালয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছি। নাটক নিয়ে যে ধরনের নেতিবাচক সমালোচনা হয় তার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। ডাবিং থেকে শুরু করে প্রিভিউ কমিটি করেছি। এমনকি আমাদের উদ্যোগে সবগুলো সংগঠন নিয়ে একটা আন্তসংগঠন করেছি। সেটা থেকে করোনাকালীনও শিল্পী-কলাকুশলীদের পাশে থেকেছি। এছাড়া গতবছর আমরা চুক্তিপত্র মেনে ১০টা থেকে ১০টা কাজ করা, সময়মতো সেটে যাওয়া, এগুলো কিন্তু ৯০% ঠিক করেছিলাম। করোনার কারণে সেটা একটু দুর্বল হলেও পুনরায় সেগুলো ঠিক করবো।

বর্তমানে নাটক ওয়েব সিরিজে অশ্লীলতা একটি আপেক্ষিক শব্দে পরিণত হয়েছে। কেউ বলছেন গল্পের প্রয়োজনে, কেউ বলছেন অশ্লীলতার ওটিটি প্লাটফর্ম আমাদের সংস্কৃতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার সুচিন্তিত মতামত কী?

আমি মনে করি কাউকে কপি করে নিজেস্ব স্বকীয়তা তৈরি করা যায় না। শিল্পের ক্ষেত্রে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ওটিটি একটি আন্তর্জাতিক মাধ্যম, তাই বলে যে আমাদের অশ্লীলতার আশ্রয় নিতে হবে এমন নয়। আমাদের গল্প দিয়েই কিন্তু আমরা আন্তর্জাতিকমানের কাজ করতে পারি। অশ্লীলতা দিয়ে অসুস্থ ব্যবসা করলে আমরাই কিন্তু ঘৃণিত হবো।

এখন টিভির দর্শক কমে যাচ্ছে। নাটক বা সিনেমা বিভিন্ন প্লাটফর্মে দেখছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের নাটক কোন দিকে যাচ্ছে?

অনেকগুলো কারণে নাটকের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। আগে যেমন নাটক প্রধান শিল্প মাধ্যম ছিল, এখন সেটা বাণিজ্যিক মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। আগে নাটকের ডিসিশন মেকার ছিল প্রোগ্রাম বিভাগ। এখন সেটা কিন্তু চলে গেছে এজেন্সি বা নিরেট ব্যবসায়ীর হাতে। এতে মান অনেক কমে গেছে, তাই দর্শকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া টিভিতে নাটক প্রচারের পরই যদি সেটা ইউটিউবে আমরা দেখতে পারি তাহলে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন কেন দেখবো! তবে একা এই বিষয়টির সমাধান করা যাবে না। সাংবাদিকরা যদি বিষয়টি নিয়ে লেখেন, সব সংগঠন ও টিভি কর্তৃপক্ষ যদি বসে আলোচনা করে তাহলে একটা ভালো সমাধান আসবে।

দেশের চলচ্চিত্রে সার্বিক অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

চলচ্চিত্র অবশ্য ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এখন যেহেতু চলচ্চিত্র ওটিটি মাধ্যম নির্ভর হচ্ছে, তাই আশা করাই যায়। আর আমাদের অনেক তরুণ মেধাবী নির্মাতা ভালো কাজ করছেন। তাছাড়া সরকারও সিনেমা হল নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলো খুবই ইতিবাচক আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য।