ত্রুটিপূর্ণ যান ও লক্কড়ঝক্কড় গাড়ির ছড়াছড়ি রাজধানীসহ সারা দেশে। এর বিরুদ্ধে আইন আছে, কিন্তু আইন মানার সংস্কৃতি নেই। বৈধভাবে যানবাহন চালাতে গাড়ির নিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বীমা এবং রুট পারমিট আবশ্যক; কিন্তু অবৈধ যানবাহন কাগজপত্র ছাড়াই চলছে! লক্কড়ঝক্কড় গাড়িগুলো মোটেই নিরাপদ নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ। পথচারীদেরও চলতে হয় ঝুঁকির মধ্যে। আতঙ্ক নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। এছাড়া রয়েছে অবৈধ চালক! বিশেষ করে অল্প বয়সি চালকদের কথা বলতে হয়। যাদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। এসব ড্রাইভার কোনো নিয়মনীতি মানে না। অনেক ড্রাইভার পরিবহন আইন সম্পর্কে মোটেও সচেতন নন; আবার কেউ কেউ সচেতন হলেও মান্য করেন না। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালান, স্টপেজ না মেনে যেখানে সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলেন। অপ্রাপ্তবয়স্করা কোনোরকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিনা বাধায় গাড়ি চালায়। প্রশিক্ষণহীন ড্রাইভার ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। প্রতি বছর অকালে হারায় অসংখ্য প্রাণ। ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীতে প্রাণ দিতে হয়েছে দিয়া ও সজীবকে। সারা দেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সর্বসাধারণ একত্মতা প্রকাশ করে। ১২ মার্চ ২০২০-এ প্রণয়ন করা হয় সড়ক পরিবহন আইন। কিন্তু যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় অবৈধ যান ও অবৈধ ড্রাইভার বাড়ছে; ফলে দুর্ঘটনাও কমছে না। এসব অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচার দূর করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। সড়ক পরিবহন আইন পুরোপুরি কার্যকরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। সতর্ক হতে হবে জনসাধারণকেও।
মো. আবদুল্লাহ
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ,
ঢাকা কলেজ