যাত্রীবেশে দুর্বৃত্ত, বাধা দিলে চালককে হত্যা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাজধানী ঢাকায় বসে ইজিবাইক ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে একটি চক্র। সে অনুযায়ী বিভিন্ন জেলাকে টার্গেট করে চক্রটি। এরপর যাত্রীবেশে ইজিবাইকে ওঠে তারা। নির্জন এলাকায় পৌঁছে ইজিবাইকের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। চালক বাধা দিলে তাকে হত্যা করে ইজিবাইক নিয়ে যায় চক্রটি। পরে মালিক হিসেবে জাল কাগজ বানিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া ইজিবাইক বিক্রি করে তারা। এমনই একটি চক্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। গতকাল সোমবার দুপুরে সিআইডির খুলনা ও রংপুর বিভাগের ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ১১টায় নীলফামারীর চাপড়াসরমজানি ইউনিয়নের ইটাপাড়ি সেতু এলাকায় ইজিবাইক চালক আবদুল হালিম হত্যা মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রটির সন্ধান পায় সিআইডি।
শেখ নাজমুল আলম বলেন, চালক আবদুল হালিম হত্যার ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডির এলআইসি শাখা। এলআইসি শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুক্তা ধর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রটিকে শনাক্ত করেন। এরপর ৭ই মার্চ সিআইডির এলআইসি শাখার একটি টিম নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মাসুম আলী, সাদের আলী ও সমবারু। এ ছাড়া সামিউল নামে চক্রের মূলহোতা এখনো পলাতক। এদের মধ্যে সমবারু ইজিবাইকের মালিক সেজে চোরাই ইজিবাইকটি ৭৬ হাজার টাকায় জয়দেব রায় নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর একটি নর্দমা থেকে চুরি করা ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, চক্রটি ঢাকার আশপাশে বসবাস করে। তারা ঢাকায় বসে চুরির পরিকল্পনা করে। এরপর বিভিন্ন জেলায় যায়। তাদের বাড়ি গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর।
চক্রটিকে গ্রেফতার না করতে পারলে ইজিবাইক চুরি বন্ধ হবে না। চক্রটি যাত্রীবেশে ইজিবাইকে ওঠে। ইজিবাইক চালক হালিমকে হত্যার কারণ হিসেবে ছিনতাইকারীরা সিআইডিকে জানিয়েছে, ইজিবাইকটি হালিমের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন। তাই চোরকে এটি দিতে চায়নি। তাই হাত-পা বেঁধে হত্যা করে ইজিবাইকটি নিয়ে যায় তারা।